ফের যুদ্ধের হুমকি, হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের ১২ যুদ্ধজাহাজ ও ১০ হাজার সেনা
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৯ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

নিজেদের শর্ত মোতাবেক ইরানকে চুক্তি সই করানোর জন্য হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের পাশাপাশি একের পর এক চাপ দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে আবারও যুদ্ধ শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। আর এবার হামলা শুরু হলে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী যখন এমন হুমকি দিচ্ছেন, তখনই হরমুজ প্রণালিতে ১২টি যুদ্ধজাহাজ, ১০০টি বিমান এবং ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে সেন্টকমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেন্টকম দাবি করেছে, ইরানের বন্দর ও উপকূল ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৪টি জাহাজ ‘পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে’ এবং অবরোধ মেনে নিয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে আবারও যুদ্ধ শুরু করার জন্য প্রস্তুত আছে মার্কিন বাহিনী। ইরানের এখন আর কোনও নৌবাহিনী নেই। আর এ কারণেই বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে মার্কিন নৌবাহিনী।
ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পিট হেগসেথ বলেন, যতদিন প্রয়োজন, ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ ততদিন জারি রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।
এরপর প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে ইরানি শাসকগোষ্ঠীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ইরান, তোমরা একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ ও সোনালি সেতুবন্ধন বেছে নিতে পারো এবং আমরা আশা করি তোমরা ইরানের জনগণের স্বার্থে সেটিই করবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, কিন্তু ইরান যদি ভুল পথ বেছে নেয়, তাহলে তাদের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত মার্কিন বোমা হামলার মুখোমুখি হবে।
এর আগে, বুধবার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে একইসঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে তারা বলেছে, তেহরান যদি অবাধ্যতা অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি করা হবে।
ইরানের ক্ষমতাসীন নেতাদের উদ্দেশ্যে হেগসেথ আরও বলেন, এটি কোনও সমান শক্তির লড়াই নয়। আপনারা কোন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরাচ্ছেন এবং কোথায় সরাচ্ছেন, তা আমাদের জানা আছে।
ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, মার্কিন বাহিনী যেকোনও মুহূর্তে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ইরানের পতাকাবাহী যেকোনও জাহাজ অথবা ইরানকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে—এমন যেকোনও জাহাজকে ধাওয়া করবে।
তিনি আরও বলেন, অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকারী সব জাহাজকে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সতর্ক করা হবে যে, যদি আপনারা এই অবরোধ না মানেন, তাহলে আমরা শক্তি প্রয়োগ করব। ইরানের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা এবং আন্তর্জাতিক জলসীমা—উভয় ক্ষেত্রেই এই অবরোধ কার্যকর করা হবে।
আমার বার্তা/জেএইচ
