যুদ্ধ কখন এবং কিভাবে শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ইরান: আব্বাস আরাগচি

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ১৯:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

তেহরানে ইসরাইলি হামলার পর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন একটি এলাকা। ছবি: তাসনিম নিউজ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সূচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি প্রশাসন। তবে যুদ্ধ কখন এবং কীভাবে শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ইরানই। একই সঙ্গে বিশ্লেষকেরা বলছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার মাধ্যমে ইরান সুপরিকল্পিত কৌশল বাস্তবায়ন করছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক ও আফগানিস্তান আগ্রাসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত দুই দশকে ইরানের পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যর্থতাগুলো তেহরান গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছে এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিয়েছে।

আরাগচি আরও বলেন, তেহরানে বোমাবর্ষণ ইরানের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ডিসেন্ট্রালাইজড মোজাইক ডিফেন্স কাঠামো আমাদের সেই সক্ষমতা দিয়েছে, যার মাধ্যমে যুদ্ধের সময় ও পরিণতি নির্ধারণ করবে ইরানই।’

ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলার মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। এর আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ দফার আলোচনায় উভয় পক্ষ ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’র কথা স্বীকার করেছিল। কিন্তু সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত আড়ালে চলে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার এবং শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর জবাবে ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস–৪’ শুরু করে। এই অভিযানে ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তু এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

এই অভিযানের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব প্রধান সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেছেন লন্ডনের কিংস কলেজের প্রতিরক্ষা অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক রব গাইস্ট পিনফোল্ড।

তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে ইরান কী করছে, সে বিষয়ে তেহরান পুরোপুরি সচেতন। তার মতে, ইসরাইলের তুলনায় উপসাগরীয় দেশগুলোকে তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে ইরান।

পিনফোল্ড বলেন, ‘ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে বেছে নিচ্ছে, কারণ তাদের ওপর আঘাত হানা সহজ। ইসরায়েলের তুলনায় তারা দুর্বল লক্ষ্য। আবার এসব দেশের এই যুদ্ধে সরাসরি আগ্রহও কম, কারণ এটি মূলত তাদের যুদ্ধ নয়।’

তিনি আরও বলেন, ইরানের ধারণা—উপসাগরীয় দেশগুলো দ্রুত যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তবে এখন পর্যন্ত সে ধরনের স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি।

পিনফোল্ডের মতে, প্রকাশ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো ঐক্য ও শক্ত অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে। তারা বোঝাতে চাইছে যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় তারা একসঙ্গে আছে। কিন্তু পর্দার আড়ালে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে পরিচালিত হবে, সে প্রশ্নে দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

তিনি বলেন, কিছু উপসাগরীয় রাষ্ট্র সামরিক প্রতিক্রিয়ার পক্ষে চাপ দিতে পারে। তবে এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়লে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার মতো হিসেবে বিবেচিত হতে পারে— এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

পিনফোল্ডের ভাষায়, দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্য এখন ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থ তুলে ধরার সক্ষমতা প্রমাণ করা।


আমার বার্তা/এমই