ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় নিহত অন্তত ১২ জন

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

ইউক্রেনে মঙ্গলবার রাতভর রুশ বাহিনীর হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ও একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ শেষ করতে উভয় পক্ষের সরাসরি আলোচনার কয়েক দিনের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কো এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে লেখেন, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে প্রায় ২০০ যাত্রী বহনকারী একটি ট্রেনের বগিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়, এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হন। 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে লেখেন, একটি ট্রেনের বগিতে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা কোনোভাবেই সামরিকভাবে ন্যায্যতা পেতে পারে না।

প্রসিকিউটররা জ্বলতে থাকা ট্রেনের বগির ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরে আঞ্চলিক জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে।

আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওডেসায় রাশিয়ার ৫০টিরও বেশি ড্রোনের একের পর এক হামলায় তিনজন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৃষ্ণসাগরীয় এই শহরটি নিয়মিতভাবেই রুশ বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে।

আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ কিপার জানান, আহতদের মধ্যে ৩৯ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী এবং দুইটি কন্যাশিশুও রয়েছে।

ঘটনাস্থলে এএফপির এক সাংবাদিক ধসে পড়া একটি আবাসিক ভবন ও ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার তৎপরতা প্রত্যক্ষ করেন।

জেলেনস্কি বলেন, এই হামলা শান্তি প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। যুদ্ধ শেষ করতে মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য তিনি মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানান।

সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পরও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলায় তীব্র শীতের মধ্যে বহু ইউক্রেনীয় বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন।

জেলেনস্কি জানান, পরবর্তী দফার আলোচনা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইউক্রেনের বেসরকারি জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে জানায়, রাতে ওডেসা অঞ্চলে তাদের একটি স্থাপনায় রুশ বাহিনী 'ব্যাপক' ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

কিপার বলেন, হামলায় ডজনের বেশি আবাসিক ভবন, একটি গির্জা, একটি কিন্ডারগার্টেন ও কয়েকটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্রেমলিন যে পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলকে নিজেদের সঙ্গে সংযুক্ত করার দাবি করে, সেই অঞ্চলের স্লোভিয়ানস্ক শহরে এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রসিকিউটররা জানান, তাদের ২০ বছর বয়সী ছেলে হামলা থেকে বেঁচে যান।
 
দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ৫৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। আর দক্ষিণ খেরসন অঞ্চলে রুশ গোলাবর্ষণে নিজ বাড়িতে ৭২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন।

রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সারা দেশে কয়েক লাখ ইউক্রেনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, রাতে রাশিয়া ১৬৫টি ড্রোন ছোড়ে। কর্মকর্তারা জানান, পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভ অঞ্চলের একটি অবকাঠামোও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস কোম্পানি নাফতোগাজ জানায়, পশ্চিম ইউক্রেনে তাদের একটি স্থাপনায় হামলার ফলে আগুন ধরে যায়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চলতি মাসে এটি এ ধরনের পঞ্চম হামলা।

রুশ বাহিনী ধীরে ধীরে বিভিন্ন ফ্রন্টে অগ্রসর হচ্ছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে, তারা জাপোরিঝঝিয়া ও খারকিভ অঞ্চলে আরও দুটি গ্রাম দখল করেছে।


আমার বার্তা/জেএইচ