ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালে এআই সহায়ক ‘লুনা’র যাত্রা শুরু
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল ও সুপার স্পেশালিটি সেন্টারেআ সোমবার (৩ আগষ্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন(go-live) হলো হাসপাতালের নিজস্ব রোগী-সহায়ক এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট 'লুনা'। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই কাজ করা এই ডিজিটাল সহায়ক এখন থেকে luna.labaidai.com.bd এবং হাসপাতালের ওয়েবসাইট labaidcancer.com-এ সার্বক্ষণিক পাওয়া যাবে, যা রোগী ও তাঁদের পরিবারের পাশে থাকবে দিনে-রাতে যে কোনো সময়।
লুনা মূলত একজন রোগীর জন্য হাসপাতালের সেবাসমূহ থেকেপছন্দের ও প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রোফাইল ও সময়সূচি দেখায় এবং চ্যাটের ভেতরেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট রিকোয়েস্ট সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করে দেয়। এর পাশাপাশি হেলথ প্যাকেজ, হোম স্যাম্পল কালেকশন ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্পর্কেও তথ্য দেয় লুনা। যাঁরা লক্ষণ বলে বোঝাতে পারেন না বা লিখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না, তাঁদের জন্য রয়েছে একটি বডি-ম্যাপ ফিচার। শরীরের যেখানে ব্যথা বা সমস্যা, সেখানে টাচ করলেই লুনা মিলিয়ে দেয় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞকে। এই ফিচারটি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় শরীরের ৪২টি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চিনতে পারে। তবে লুনা কোনো চিকিৎসা পরামর্শ বা জরুরি নির্দেশনা দেয় না; জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে সীমিত পরিসরে চলা এই সেবা ইতিমধ্যে রোগীদের কাছ থেকে উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পেয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহে লুনার সঙ্গে ১৫ হাজার ৩২০ জন মানুষের যোগাযোগ ঘটেছে, যাঁদের মধ্যে ২৯৭ জন সরাসরি কথোপকথনে অংশ নিয়েছেন এবং মোট ২ হাজার ৩৫৩টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে লুনা — অর্থাৎ প্রতিটি রোগী গড়ে প্রায় আটটি করে প্রশ্ন করেছেন, যা প্রমাণ করে এগুলো নিছক একটি প্রশ্নে থেমে যাওয়া কথোপকথন নয়, বরং প্রকৃত পরামর্শমূলক আলাপ। এই সময়ের মধ্যে চ্যাটের ভেতর থেকেই ৪৪টি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক হয়েছে এবং প্রতিটি অনুরোধই শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে হাসপাতালের সিস্টেমে। প্রায় ৩ হাজার ১০০ জন রোগী একাধিক দিনে ফিরে এসে লুনার সঙ্গে কথা বলেছেন, যা দেখায় রোগীরা এই সেবার ওপর ভরসা রাখতে শুরু করেছেন।
লুনার সঙ্গে কথোপকথনের প্রায় অর্ধেকই (৪৫ শতাংশ) ঘটে সন্ধ্যা ও গভীর রাতে, যে সময়টায় হাসপাতালের সাধারণ ডেস্কে কোনো মানুষ সাড়া দেওয়ার থাকে না। আর ৮৩ শতাংশ রোগীই লুনার সঙ্গে কথা বলেন মোবাইল ফোন থেকে, যা এই সেবাকে সত্যিকার অর্থে মোবাইল-বান্ধব একটি সমাধান হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে।
লুনার উদ্ভাবক এবং ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীম বলেন, "ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর একজন রোগী ও তাঁর পরিবারের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় দ্রুত সঠিক তথ্য আর নির্ভরযোগ্য একজন পাশে থাকা মানুষের অনুভূতি, রাত হোক বা দিন। লুনা তৈরি করা হয়েছে ঠিক সেই জায়গা থেকে, যাতে কেউ প্রশ্ন নিয়ে বসে না থাকেন। গত কয়েক সপ্তাহে আমরা যে সাড়া পেয়েছি, তা আমাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে যে প্রযুক্তি ঠিকভাবে ব্যবহার করলে তা মানবিক সেবাকে আরও কাছে নিয়ে আসে, দূরে ঠেলে দেয় না।"
ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লুনার এই যাত্রা কেবল শুরু। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সেবার এই সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্যান্সার চিকিৎসায় আসা রোগী ও তাঁদের পরিবারের পাশে আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে দাঁড়াতে চায় হাসপাতালটি।
আমার বার্তা/এমই
