পুলিশ কেসের রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় আসছে নতুন নির্দেশনা
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ১৮:১৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য যে-কোনো কারণে আহত কোনো রোগী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর যদি সেটি পুলিশ কেস হিসেবে বিবেচিত হয় এবং পরে তাকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, তাহলে সরকারি হাসপাতালের একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের লিখিত রেফারেল বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রোগী ভর্তি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্থানীয় থানাকে বিষয়টি অবহিত করতে হবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করা হচ্ছে এবং আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে।
অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালচক্র রোগী সরিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে নামসর্বস্ব ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে বিপুল অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পান না। এসব অনিয়ম বন্ধ করা এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জবাবদিহি ও নজরদারি বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালে আসা গুরুতর মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের বেশিরভাগ সময়ই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) এর প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকলে বাধ্য হয়ে রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করতে হয়। সে ক্ষেত্রে রোগী স্থানান্তরের আগে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছ থেকে লিখিতভাবে উল্লেখ করতে হবে যে আইসিইউ শয্যা না থাকায় রোগীকে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে একটি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি।
ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পুলিশ কেসের রোগীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা অবগত থাকলে কোনো হাসপাতাল চাইলেই রোগীকে জিম্মি করে রাখার সুযোগ পাবে না। এতে রোগীর স্বার্থ সুরক্ষিত হবে এবং আইনগত তদারকিও সহজ হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন ঢাকা পোস্টে প্রকাশিত “নামসর্বস্ব ক্লিনিকে রোগী ‘সাপ্লাই’, নিঃস্ব হচ্ছে হাজারও পরিবার” শিরোনামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ শুরু করেছে।
আমার বার্তা/এমই
