আমি আপনাদের ভালোবাসার অরূপ হয়েই থাকতে চাই: ডা. অরূপরতন চৌধুরী
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১৯:২৮ | অনলাইন সংস্করণ
জ. ই. বুলবুল:

অধ্যাপক ডা. অরূপরতন চৌধুরী। স্বীয় কর্মে নন্দিত এক চিকিৎসক, কোনো নির্দিষ্ট পরিচয়ের গণ্ডিতে বেঁধে রাখা দায়। তার কর্ম তার পরিচয়কে দিয়েছে বহুমাত্রিকতা। বীর মুক্তিযোদ্ধা, একুশে পদকপ্রাপ্ত শব্দ সৈনিক ও সংগীত শিল্পী। চিকিৎসক, নিজ ক্ষেত্রে অত্যন্ত- সম্মানিত নাম। কেবল চিকিৎসা নয়, দাঁতের যত্নে সচেতনতা সৃষ্টিতে তিনি বাংলাদেশে পুরোধা ব্যক্তিত্ব। মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রামেও তিনি অগ্রগণ্য নাম। মাদক নিরাময়ে ১৯৮৯ সাল থেকে তার প্রতিষ্ঠিত ‘মানস’নামক একটি মাদক। বিরোধী সংগঠনের মাধ্যমে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নিরলস। ধূমপান ও মাদক বিরোধী কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদান এর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক সম্মাননা প্রাপ্ত। লেখা লেখিতেও সমান সক্রিয়।
১৯৫২ সালে সিলেটের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অরূপরতন চৌধুরী। মাতা বিশিষ্ট সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মঞ্জুশ্রী চৌধুরী এবং পিতা-সিলেটের কৃতী সন্তান শৈলেন্দ কুমার চৌধুরী। বর্তমানে বারডেম-এর ডেন্টাল সার্জারি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর এবং ইব্রাহীম মেডিক্যাল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর। সম্প্রতি দাঁতের মৌলিক যত্ন সম্পর্কিত একটি বই প্রকাশ করেছেন নাম ‘দাঁত ও মুখের যত্ন ও চিকিৎসা’। বইটি ইতোমধ্যে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ডা. অরূপরতন চৌধুরীর সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সঙ্গে। মানুষের দাঁতের যত্ন বিষয়টির গুরুত্ব অনুভব করেই রচনা করেছি।
স্বাক্ষাৎকারটি তুলে ধরেছেন আমার বার্তার বিশেষ প্রতিনিধি জ. ই. বুলবুল
প্রশ্ন : আপনি তো একজন লেখক ও কলামিস্ট। আপনার লেখা পড়ে অনেকে স্বাস্থ্য বিষয়ক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে। সেক্ষেত্রে লেখালেখি নিয়ে নতুন করে কি কিছু ভাবছেন?
অরূপরতন চৌধুরী : হ্যাঁ লেখালেখি আসলে আমার আত্মসম্পৃক্ততার বিষয়। আমি সুযোগ পেলেই লিখি। লিখতে না পারলে আমার আত্মপ্রশান্তি কাজ করে না। আমি আরো অনেকগুলো বিষয় নিয়ে ভাবছি সেগুলো সামনে জানতে পারবেন।
প্রশ্ন : আপনি তো একজন বিখ্যাত সংগীত শিল্পী। আপনার গানের প্রচুর অনুরাগী রয়েছে। অনেক রোগী বলেন, আপনি আপনার চেম্বারে মৃদু শব্দে গানের পাশাপাশি চিকিৎসা দিয়ে থাকেন, এতে তারা আনন্দ ও শান্তি অনুভব করে বিষয়টি সম্পর্কে যদি একটু বলতেন?
অরূপরতন চৌধুরী : আসলে বিষয়টি হচ্ছে যখন আপনি গান শুনবেন তখন দেখবেন আপনার ভিতরের আতঙ্ক বা অ্যাংজাইটি কমে যাবে এবং একটা আলাদা আনন্দ অনুভব করবেন। সেজন্যে- বইটি আমি লিখেছি এটি শুধুমাত্র একটি বই আমি এটা করি। অনেক রোগী দাঁতের নয়, এটি মূলত একটি দন্ত বিষয়ক গুরত্বপূর্ণ অপারেশনের সময় ভয় পায়। এটি আমার সৃষ্টিকর্ম। এই বইটি সকল মানুষের মাঝে দাঁতের অপারেশন বা দাঁতের চিকিৎসায় যত্ন বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। সেই সঙ্গে তখন মৃদু শব্দে একটা গান বেজে চলে।
প্রশ্ন : কীভাবে এমন একটি বই লেখার আগ্রহ সৃষ্টি হলো এবং উদ্দেশ্য?
অরূপরতন চৌধুরী : মানুষ আসলে দাঁতের যত্নে সবসময়ই অবহেলা করে বা তারা দাঁতের যত্নের সঠিক প্রক্রিয়াটা হয়তো জানেই না, যার কারণে আমি বিষয়টি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বইটি লেখার জন্য মনোনিবেশ করি। তাদের মনটা সুরের সঙ্গে মিলে যায়, তাদের ভেতর আর ভয় কাজ করে না। এটা একটা সাইকোলজিক্যাল বিষয়।
প্রশ্ন : আপনি তো চলচ্চিত্র নিয়েও কাজ করেছেন। সামনে কী কোনো কাজ নিয়ে ভাবছেন?
অরূপরতন চৌধুরী : আসলে সিনেমা আমার একটা প্যাশনের জায়গা। সিনেমা আমি ভালোবাসি জীবনে প্রচুর সিনেমা দেখেছি। আর সেখান থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণের ইচ্ছে তৈরি হয়। হ্যাঁ, সময় সুযোগ যদি বের করতে পারি তাহলে অবশ্যই ভবিষ্যতে ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণ করার ইচ্ছে আছে। যা হবে আগের চেয়ে একটু ভিন্ন ও আলাদা।
প্রশ্ন : গণমাধ্যমের মাধ্যমে আপনার অনুরাগীদের যদি কিছু বলতে চান?
অরূপরতন চৌধুরী : আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই যে, আমি আসলে বাইরের কেউ না, আমি তাদের অরূপরতন হয়েই থাকতে চাই। মানুষের ভালোবাসায় থাকতে চাই। সবাই আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন, যাতে আমি আপনাদের সেবায়। নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি।
জিজ্ঞাসাকারী : ধন্যবাদ আপনাকে আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।
অরূপরতন চৌধুরী : আপনাকে ধন্যবাদ।
আমার বার্তা/এমই
