সোমবার থেকে সারাদেশে হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৩২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

দেশে হাম রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর হার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে সরকার আগামীকাল সোমবার থেকে সারাদেশে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। হামের টিকার জরুরি এই ক্যাম্পেইন শুরু হয় গত ৫ এপ্রিল।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সহকারী পরিচালক ডা. হাসানুল মাহমুদ আজ রোববার গণমাধ্যমকে জানান, এ কর্মসূচির আওতায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাম প্রতিরোধে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। ওই দিন থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এমআর টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম চালু হয়।
সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে যেসব এলাকায় হামের সংক্রমণ বেশি, সেসব অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে শুরুতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশু এমআর টিকা পাচ্ছে। আগে টিকা নেওয়া থাকলেও চলমান ক্যাম্পেইনের আওতায় পুনরায় টিকা গ্রহণ করা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। পরবর্তীতে ১২ এপ্রিল থেকে এ কর্মসূচি ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল—এই চারটি সিটি করপোরেশনে সম্প্রসারণ করা হয়। আগামীকাল থেকে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগে ৩ মে থেকে সারা দেশে এই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও তা এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ডা. হাসানুল মাহমুদ জানান, ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। সারা দেশব্যাপী এই কর্মসূচি সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ মে পর্যন্ত এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় ১২ মে পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সব স্থায়ী ও অস্থায়ী (আউটরিচ) কেন্দ্র থেকে এই টিকা প্রদান করা হবে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা জানান, সারা বছর শিশু ও নারীদের ১২টি রোগ প্রতিরোধে ১০টি টিকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে এমআর টিকাও অন্তর্ভুক্ত। নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমে ৯ মাস থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের এমআর টিকা দেওয়া হয়। তবে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে প্রতি বছর অন্তত ১০ শতাংশ শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়। ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সেই শিশুদের টিকার আওতায় আনা হয়। দেশে সর্বশেষ জাতীয় হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালে।
আমার বার্তা/এমই
