প্রেমিকের নির্যাতন ও পরিচালকের লালসা, রোজ রাতে কাঁদতেন নীতি
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

স্কুলজীবনে বুলিং, চার বছরের প্রেমে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, আর অভিনয়ের প্রস্তাবের আড়ালে শারীরিক সম্পর্কের চাপ- জীবনের একের পর এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন ভারতীয় অভিনেত্রী নীতি টেইলর। তার দাবি, সাবেক প্রেমিক তাকে মারধর করার পাশাপাশি সিগারেটের ছ্যাঁকাও দিতেন।
অন্যদিকে, সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেতে এক পরিচালক তার কাছে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
‘ক্যায়সি ইয়ে ইয়ারিয়াঁ’, ‘গুলাম’ ও ‘বড়ে আচ্ছে লাগতে হ্যায়’-এর মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া নীতি সম্প্রতি ‘হটারফ্লাই’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব অভিজ্ঞতার কথা জানান। স্কুলজীবনের হয়রানি থেকে শুরু করে প্রেমের সম্পর্কে নির্যাতন, কাস্টিং কাউচ এবং শুটিংয়ের সেটে সহকর্মীর সঙ্গে সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
স্কুলে বুলিংয়ের শিকার, প্রতিদিন কাঁদতেন
নিজের স্কুলজীবনকে জীবনের অন্যতম কঠিন সময় বলে উল্লেখ করেছেন নীতি। তার ভাষ্য, বান্ধবীদের প্রেমিকদের প্রতি আগ্রহ না দেখানোয় কয়েকজন ছেলে তাকে বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। তাদের কেউ কেউ প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে পারেননি বলে মনে করেন অভিনেত্রী। এরপর তাকে ঘিরে শুরু হয় অপমান ও হয়রানি। স্কুলের শৌচাগার ও বাসস্টপসহ বিভিন্ন জায়গায় তার বাড়ির ফোন নম্বর লিখে রাখা হয়েছিল। ফলে ল্যান্ডফোনে আসতে শুরু করে আপত্তিকর কল। সহপাঠীদের কেউ কেউ তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করত, গায়ে পানি ও খাবার ছুড়ে মারত এবং অশ্লীল কথাও লিখত।
নীতি জানান, এসব ঘটনার কারণে স্কুলবাসে বসে প্রায় প্রতিদিন কাঁদতেন তিনি। বিষয়টি বাবা-মাকে জানানোর পর তারা তাকে পরীক্ষায় মনোযোগ দিতে বলেন এবং পরীক্ষা শেষ হলে শহর ছেড়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন।
চার বছরের প্রেমে শারীরিক নির্যাতন
‘ক্যায়সি ইয়ে ইয়ারিয়াঁ’র প্রথম মৌসুমের শুটিং চলাকালে একটি নির্যাতনমূলক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে জানান নীতি। তার অভিযোগ, সাবেক প্রেমিক তার পোশাক, চলাফেরা এবং অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা নিয়ে নিয়মিত আপত্তি জানাতেন। একবার প্রেমিকের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অস্বস্তি বোধ করায় বান্ধবীদের সঙ্গে চলে যেতে চেয়েছিলেন নীতি। কিন্তু প্রেমিক তাকে বাধা দেন। পরে বাড়ির বাইরে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। অভিনেত্রীর দাবি, প্রেমিক তাকে ধাক্কা দেওয়ার পাশাপাশি চড়ও মারেন। ঘটনাটি ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে বলে জানান তিনি।
নীতি আরও অভিযোগ করেন, ওই সম্পর্কে তাকে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছিল। সেই ক্ষতের দাগ এখনো তার শরীরে রয়েছে। ত্বকে সহজেই কেলয়েড তৈরি হওয়ায় দাগটি স্পষ্ট হয়ে আছে বলেও জানান অভিনেত্রী।
‘তুমি খাটো, মোটা, দেখতে বাজে’
শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি সাবেক প্রেমিকের কাছ থেকে নিয়মিত অপমানজনক কথাও শুনতে হতো বলে দাবি নীতির। তার ভাষ্য, প্রেমিক তাকে খাটো, মোটা ও দেখতে খারাপ বলে অপমান করতেন। এতে নিজের চেহারা ও যোগ্যতা নিয়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন তিনি। সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখতে প্রেমিকের নানা কাজ করে দিতেন নীতি। তার ঘর পরিষ্কার করা, রান্না করা এবং প্রেমিকের বাবা-মা বেড়াতে এলে তাদের ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার মতো কাজও করতেন। চার বছর পর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে বুঝতে পারেন, ওই অভিজ্ঞতা তার আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাসে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
নীতি জানান, এখনো কেউ তার সৌন্দর্যের প্রশংসা করলে তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। তার মতে, বেড়ে ওঠার সময় নিজের মূল্য বুঝতে শেখা জরুরি। অন্য কাউকে নিজের আত্মসম্মান নষ্ট করতে দেওয়া উচিত নয়।
অভিনয়ের সুযোগ পেতে পরিচালকের শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজ করার সময় কাস্টিং কাউচের অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন নীতি। তার দাবি, দুটি সিনেমায় অভিনয়ের পর প্রথম ছবির পরিচালক তাকে নতুন একটি সিনেমায় কাজের প্রস্তাব দেন। কিন্তু চরিত্রটি পেতে হলে পরিচালকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে হবে বলে জানানো হয়। এমন প্রস্তাবে হতবাক হয়ে যান অভিনেত্রী। নীতি জানান, তিনি ফোন কেটে দেন, পরিচালকের নম্বর ব্লক করেন এবং ঘটনাটি মাকে জানান। ওই অভিজ্ঞতা তাকে এতটাই আঘাত করেছিল যে, এরপর আর সিনেমায় কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
‘গুলাম’-এর সেটেও সমস্যার অভিযোগ
‘গুলাম’ ধারাবাহিকে কাজ করার সময় এক সহ-অভিনেতার সঙ্গে সমস্যার কথাও তুলে ধরেন নীতি। তার ধারণা, ধারাবাহিকে তিনি যে মনোযোগ পাচ্ছিলেন, তা ওই সহশিল্পী ভালোভাবে নেননি। নীতি জানান, তারা একই মেকআপশিল্পীর কাছ থেকে মেকআপ নিতেন। কিন্তু ওই সহশিল্পী দরজা বন্ধ করে রাখতেন, যাতে মেকআপশিল্পী তার কাছে যেতে না পারেন। একবার মেকআপশিল্পীকে নিজের ঘরে আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছিল বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া তাকে নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়েও ক্ষোভ জানান অভিনেত্রী। সেসব প্রতিবেদনে সেটে দেরিতে আসা ও উদ্ধত আচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে নীতির দাবি, তিনি সব সময় সময়নিষ্ঠ থাকার চেষ্টা করতেন।
জীবনের এসব অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে নীতি তুলে ধরেছেন, কীভাবে দীর্ঘদিনের হয়রানি ও নির্যাতন একজন মানুষের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে।
