জন্মের আগে কী এমন পাপ করেছিলাম যে আমার জন্ম বাংলাদেশে হলো: উর্বি
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

সম্প্রতি একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বি। ভিডিওতে জার্মানিতে কনটেইনার দিয়ে তৈরি ঘরে থাকার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তিনি। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তার পোশাক ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যের ঝড় ওঠে। যা দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এই অভিনেত্রী।
ওই রিলটিতে প্রায় সাত থেকে আট লাখ বার দেখা হয়েছে। দর্শকের ভালোবাসা পাওয়া কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উর্বী লিখেছেন, ‘এত মানুষের ভালোবাসা, আগ্রহ আর সুন্দর মন্তব্যের জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। কিন্তু সেই রিলের নিচে কিছু মানুষের মন্তব্য পড়ে খুব অস্বস্তিতে পড়েছি। একটা মেয়ের শরীর, পোশাক, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এত নোংরা ভাষায় কথা বলার মধ্যে মানুষ কী আনন্দ খুঁজে পায়, আমি জানি না।’
নিজের ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই আমার শরীর, আমার পোশাক, আমার ফেসবুক প্রোফাইল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আপনাদের নেই। ভালো না লাগলে দেখবেন না। পছন্দ না হলে আনফলো করবেন।’
অভিনেত্রী আরও লেখেন, ‘আমি এসব মন্তব্যের স্ক্রিনশট নিয়ে একে একে সবাইকে এক্সপোজ করলাম। যারা এসব লিখছেন, তাদের পরিবার, স্ত্রী, গার্লফ্রেন্ড কিংবা কাছের মানুষদের কাছেও এসব স্ক্রিনশট পাঠানোর কথা আমার মাথায় এসেছে। কারণ অনেক সময় মানুষ নিজের মা-বোন-স্ত্রীকে সামনে রেখে যে ভাষায় কথা বলে না, সোশ্যাল মিডিয়াতে অন্য একটা মেয়েকে নিয়ে সেই ভাষাই ব্যবহার করে।’
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘এই দেশের মেয়েদের ভবিষ্যৎ কী? আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের কী শেখাচ্ছি? যাদের অনেকেই স্কুল-কলেজে পড়ে তাদের কাছ থেকে যদি একজন মেয়েকে নিয়ে এমন ভাষা শুনতে হয় তাহলে সত্যিই ভয় লাগে।’
নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস কথা উল্লেখ করে উর্বী বলেন, ‘আমি একজন মুসলিম। আল্লাহকে বিশ্বাস করি। নামাজ পড়ি। রোজা রাখি। আমি ম্যারিড। মাঝে মাঝে সত্যিই মনে হয় জন্মের আগে কী এমন পাপ করেছিলাম যে আমার জন্ম বাংলাদেশে হলো? কথাটা হয়তো রাগ আর কষ্ট থেকে বলছি। কিন্তু কিছু মন্তব্য পড়ে নিজের দেশ আর সমাজ নিয়ে খুব অসহায় লাগে। শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করি আল্লাহ তাঁদের হেদায়েত দিন। এবং আমাকে কখনও তাদের মতো হওয়ার থেকে রক্ষা করুন। কারণ এসব মন্তব্য পড়তে নিজেরই লজ্জা, ঘৃণা, অস্বস্তি লাগে।’
সামাজিক মাধ্যমে নিজের স্বাধীনতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ফেসবুকে আমি কী পোস্ট করব, সেটা আমার সিদ্ধান্ত। ভালো লাগলে দেখবেন। ভালো না লাগলে দেখবেন না। এতটুকু রেসপেক্ট আশা করি। সত্যি বলতে, এমন ফ্যান বা ফলোয়ার দরকার নেই যারা আমাকে ফলো করবে শুধু আমার শরীর, পোশাক বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার জন্য। এমন ফলোয়ার থাকার চেয়ে কোনো ফলোয়ার না থাকাই ভালো।’
শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘যারা আমাকে ভালোবাসেন, আমাকে সাপোর্ট করেন আপনাদের জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া, তিনি আমাকে এমন নোংরা মানসিকতা নিয়ে জন্ম দেননি।’
