তানজিন তিশার চড়, অথৈয়ের অভিযোগ: উত্তপ্ত দেশের নাট্যাঙ্গন

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬, ২০:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

নির্মাতাদের যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বে শুরু হওয়া ‘মি টু’ আন্দোলন এক সময় ভারতেও আছড়ে পড়ে। নায়িকা ও চরিত্রাভিনেত্রীরা একের পর এক প্রযোজক, পরিচালক এবং কাস্টিং কাউচের বিরুদ্ধে গোপন বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আনতে শুরু করেন। তাতে ব্যক্তি চরিত্রের নেপথ্য কথা যেমন সামনে এসেছে তেমনি সামনে এসেছে এই ইন্ডাষ্ট্রিতে ক্যারিয়ার প্রত্যাশী নারীরা কিভাবে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। সেই জীবন সংগ্রামের কথাগুলো এখনো পত্র-পত্রিকায় উদ্ভাসিত হয়। এতে বিনোদন পিয়াসীদের অনেকে তৃপ্তি অনুভব করেন। কারণ তারা বাস্তবে যা করতে পারেন না সেটা পর্দায় দেখে তৃপ্তি নিবারণ করেন। আবার কেউ কেউ এটাকে কদর্য মনে করেন। প্রশ্ন হলো কদর্যের অভিযোগে একটি ছবিকে প্রত্যাখান করা যায়। কিন্তু বাস্তবের ঘটনাকে তো এড়িয়ে যাওয়া যায় না। মি টু আন্দোলনের কদর্য দিকটির কারণে সিনেমা জগতে নেমে আসে এক ধরনের বিপর্যয় এবং সেটা ইন্ডাষ্ট্রির ভেতর ও বাইরে চরমভাবে আঘাত করেছে। মি টুকে কেন্দ্র করে কোনো কোনো নির্মাতা কারাগারও ভোগ করছেন। 

একই পরিস্থিতি এখন পরিলক্ষিত হচ্ছে দেশের নাট্যাঙ্গনে। ঠিক মি টু নয়, কিছু নাট্য-তারকার সমাজের নিয়ম-নীতি বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের কারণে নাট্যাঙ্গন কলুষিত হচ্ছে। সদ্য আত্মহত্যা করেছেন অভিনেতা আরিফ আলভির স্ত্রী ইকরা। তার আত্মহত্যার সময় আলভি নেপালে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে, তিনি অভিনেত্রী তিথির সঙ্গে সেখানে আয়েশে সময় কাটাচ্ছিলেন। পরে আলভি এবং তিথির সম্পর্কের বিষয়টি বিস্তারিত করলেও তা কারো বিশ্বাসযোগ্যতার মাঝে আসেনি। এই নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তদন্তাধীন আছে।

নাট্যাঙ্গনের এই কলুষিত অধ্যায় বেশি গুরুত্ব পায় অভিনেত্রী মেহজাবীনের ঘটনা দিয়ে। তিনি বিদেশ থেকে ফেরার পথে ১৪ বোতল বিদেশি মদ নিয়ে ধরা পড়েন ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এই সংবাদ গণমাধ্যমে আসার পর মেহজাবীন ঘটনাটি দ্রুত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। যখন ঘটনাটি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তখন তিনি মামলার হুমকি দেন। কিন্তু বিরুদ্ধে মামলা করবেন? ঠিক এই সময়ই হাটে হাঁড়ি ভেঙ্গে দেন ইমরোজ তিশা। এক আড্ডায় তিনি বলেন, মেহজাবীনের ঘটনাটি পুরোপুরি সত্যি।

তিনি এবং তার স্বামী প্রভাব খাটিয়ে মেহজাবীনকে বিমানবন্দর থেকে ছাড়িয়ে আনেন। তারপর থেকে মেহজাবীন নীরবতা পালন করছেন। এখন সময়ের আলোচিত ঘটনা তিশা ও অথৈয়ের ঘটনাটি। তানজিন তিশা চিত্রনাট্যের দাবি উল্লেখ করে অথৈকে ছড় মেরেছেন। অথৈ ঘটনাটি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। তিনি ফেসবুক লাইভে ঘটনাটি তুলে ধরেছেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে তানজিন তিশাও ইউনিট নিয়ে ফেসবুকে লাইভ করেছেন। তানজিন তিশা যেহেতু তারকামূল্যের দিক থেকে অথৈয়ের চাইতে বেশি সেহেতু পরিচালক সেদিকেই ঝুঁকেছেন। সর্বশেষ জানা গেছে, অথৈ শেষ পর্যন্ত অভিনয় শিল্পী সংঘের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, চিত্রনাট্যের দাবির কথা তুলে তিশা কেন কষে চড় মেরেছেন অথৈকে। তিশার জেদটা কোথায়। চিত্রনাট্য কখনোই একজন শিল্পীকে দাঁত পড়ে যাওয়ার মতো চড় মারার কথা বলে না। জানা গেছে, এই জিদের শেকড় অনেক গভীরে।

তবে আলোচনায় আসছে অভিনেতা মুশফিক ফারহানের নাম। উল্লেখ করার বিষয় হলো,  অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ জানান, মুশফিক আল ফারহানের সঙ্গে কাজ না করতে তিশা আমাকে মানা করে ছিলেন। এমনকি বলেছিলেন ফারহান তার (তানজিন তিশা) জামাই হয়। দুই বছর আগে তিনি এ কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি। অথৈ আরও জানান, শুধু তাকেই নয়, অভিনেত্রী কেয়া পায়েলসহ আরও অনেককেই ফোন করে ফারহানের সঙ্গে কাজ করতে নিষেধ করে হুমকি দেন তিশা। সে সময় তিশার কাছে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন ফারহান তার ‘জামাই’। এই ঘটনার পর অথৈ বিষয়টি ফারহানকে জানান এবং পরবর্তীতে তার সঙ্গে আর কাজ করেননি। এখানে আরো একটি ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে। সে ঘটনার নায়ক-নায়িকা হলেন সুনেরা বিনতে কামাল ও শরিফুল রাজ। একটি অনলাইন তাদের নিয়ে রসিকতা করে লিখেছে, শোবিজ তারকা বলে কি তারা হ্যাংগস আউট করতে পারবেনা? রাজ সুনেরা বিনতে কামাল, তানজিন তিশা, তুষি নতুন প্তজন্মের তারকা। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তাদের। তাই তারা একটু মদ টদ খাইতেই পারে।

মেহজাবিন এবং সাফা কবিরও তো এযুগের বেশ জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল। ওরা দুইজন এতো বছর কাজ করছে। কোনো আপত্তিকর ঘটনাতো ঘটেনি।  তানজিন তিশা, তুষির কোন দোষ আসলে বলা যায় না। রাজ ওদের ফ্রেন্ড। আড্ডা দিসে, মদ খাইছে, একটু পার্টি করছে। এ-যুগে খুবই নরমাল এগুলো। তবে সুনেরাহ ও রাজ নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে পারবেনা। বিদ্যা সিনহা মিমকে ও রাজকে নিয়ে আপত্তিকর স্ট্যাটাসের পর পরিমণি ও রাজের মিসআন্ডাস্ট্যান্ডিং শুরু হয়। ১০ দিন রাজ পরির সঙ্গে থাকেনি। শোনা যায়,  থেকেছে সুনেরার সঙ্গে, যা অবৈধ। সেই সময় কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার লিখেছিল, পরির অভিযোগ, রাজের অন্য নারীদের প্রতি আসক্তি ছিল।

বিগত কয়েক মাস ধরেই আলাদা থাকছিলেন তারা। এর মাস কয়েক আগেই রাজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল ও তানজিন তিশার গোপন ভিডিয়ো ফাঁস হয়। সেখানে রাজের সঙ্গে অন্তরঙ্গ কথা বলতে শোনা যায়। কিছু কথোপকথন শালীনতার মাত্রাও অতিক্রম করে।


আমার বার্তা/এমই