সুষ্ঠু-নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিতে মাদ্রাসা বোর্ডের কঠোর অবস্থান
দাখিল পরীক্ষা ২০২৬
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

আসন্ন দাখিল পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। একইসঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম রোধে এবার প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বোর্ডের পক্ষ থেকে দাখিল পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে নতুন নীতিমালায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আইন, ২০২০-এর আলোকে এই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষা পূর্ববর্তী সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে, পূর্ণ সময়ে এবং পূর্ণ নম্বরে অনুষ্ঠিত। বোর্ড অনুমোদিত মাদ্রাসা থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করা এবং নিয়মিত রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। তবে রেজিস্ট্রেশনের তথ্যের সঙ্গে ফরম পূরণের তথ্যে কোনো গরমিল থাকলে পরীক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান প্রধান দায়ী থাকবেন। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার বছরের ১ জানুয়ারি ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১৪ বছর এবং সর্বোচ্চ ২০ বছর। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে বয়স শিথিলযোগ্য থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রের নির্দেশনা ও নিরাপত্তার বিষয়ে নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, বোর্ড নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পরীক্ষার সময় চারপাশের ১০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। পরীক্ষার্থীরা সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারলেও প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখতে পারবে না। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত একজন মহিলা ইনভেজিলেটর থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে নীতিমালা অনুযায়ী, দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই, এমন পরীক্ষার্থীরা স্ক্রাইব বা শ্রুতিলেখকের সহায়তা নিতে পারবে। এক্ষেত্রে বোর্ড থেকে পূর্বানুমতি সাপেক্ষে তারা অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। অন্যদিকে অটিস্টিক বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ (অর্থাৎ ৩ ঘণ্টার পরীক্ষায় ৩০ মিনিট) সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।
বোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষার পর উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট প্রেরণে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওএমআর শিটগুলো হলুদ রঙের কাপড়ে মুড়িয়ে সিলগালা করে বোর্ডে পাঠাতে হবে। ঢাকা মহানগরীর কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে উত্তরপত্র ও অন্যান্য নথিপত্র পরীক্ষার দিনই সরাসরি বোর্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এছাড়া পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে নিজ নিজ আসনে উপস্থিত থাকতে হবে বলেও নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
আমার বার্তা/এমই
