সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা-জবাবদিহি বাড়াতে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ১৮:১১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন জোরদারে বাংলাদেশকে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এ অর্থ দিয়ে পরিসংখ্যান, কর প্রশাসন, সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয় এবং নিরীক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল রূপান্তর ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
রোববার (২৮ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়। গত বছরের ১২ জুন বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের এ প্রকল্প অনুমোদন করে।
বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশের উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শক্তিশালী সরকারি প্রতিষ্ঠান, অধিক স্বচ্ছতা এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অপরিহার্য। তবে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, তথ্যব্যবস্থা, সরকারি ক্রয় ও রাজস্ব আহরণে বিদ্যমান দুর্বলতা এখনো দক্ষতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
এ বাস্তবতায় স্ট্রেনথেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিটা) প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের মূল পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়নে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক।
প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) সমন্বিত জাতীয় তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণের জন্য উচ্চমানের পরিসংখ্যান উৎপাদন ও ব্যবহার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা দেওয়া হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর প্রশাসনে অটোমেশন, ই-ইনভয়েসিং এবং সমন্বিত ডিজিটাল সিস্টেম চালুর মাধ্যমে কর পরিপালন ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া পরিকল্পনা বিভাগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর বিশ্লেষণ এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা হবে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) ই-জিপি ব্যবস্থায় উন্নত ডিজিটাল সুবিধা যুক্ত করে সরকারি ক্রয়ে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয়ে নিরীক্ষা কার্যক্রম ডিজিটাল করা হবে। এর মাধ্যমে বর্তমানে নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশে গড়ে ৭২ মাস সময় লাগলেও তা কমিয়ে ৯ মাসে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে প্রকল্পটি কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে ডিজিটাল ব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সক্ষমতা উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে সরকারি সেবার মান বাড়ানো হবে।
এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, জনগণকে আরও ভালো সেবা দিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারি ক্রয়, তথ্যের মান, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ প্রকল্প কার্যকর সেবা প্রদানের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।
বাংলাদেশ ও ভুটানে বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, বাংলাদেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এমন শক্তিশালী ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যেগুলোর ওপর জনগণ ও বিনিয়োগকারীরা আস্থা রাখতে পারে। সিটা প্রকল্প সরকারি মূল ব্যবস্থাগুলোকে আধুনিক করবে, তথ্যের গুণগত মান উন্নত করবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও তথ্যনির্ভর করবে এবং ফলাফল পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহি আরও কার্যকর করবে।
আমার বার্তা/এমই
