সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ১৯:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

বাংলাদেশি ব্যক্তি ও ব্যাংকগুলোর সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ২০২৫ সালে ৪১% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৪ দশমিক ২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা), যা ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রা। 

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত বার্ষিক পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে।

এই উল্লম্ফনের ফলে বাংলাদেশের নামে থাকা অর্থের পরিমাণ এখন ২০২১ সালের শেষে রেকর্ড করা সর্বকালের সর্বোচ্চ মাত্রা ৮৭১ দশমিক ১ মিলিয়ন ফ্রাঁ-এর ঠিক পেছনে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে, ২০২৫ সালের এই হিসাব গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং ২০২৪ সালে রেকর্ড করা ৫৯০ মিলিয়ন ফ্রাঁ থেকে এটি একটি বড় উল্লম্ফন।

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক ব্যাংকিং পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বৃদ্ধির মূল কারণ বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতে ৪৩% বৃদ্ধি, যা আগের বছরের ৫৭৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ফ্রাঁ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৮২২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ফ্রাঁয় পৌঁছেছে।

এর বিপরীতে, ব্যক্তি গ্রাহক হিসাবে রাখা আমানতের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন প্রবণতা। এ ধরনের আমানত প্রায় ১০% কমে আগের বছরের ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ফ্রাঁ থেকে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ফ্রাঁ।

সবমিলিয়ে, সাম্প্রতিক এই উল্লম্ফন এসেছে ২০২৩ সালের একটি ঐতিহাসিক পতনের পরই, যখন সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল, এরপর পরবর্তী বছরগুলোতে তা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। তবে এই পরিসংখ্যান সুইস ব্যাংকগুলো নিজেরাই এসএনবি-কে রিপোর্ট করা অফিসিয়াল তথ্য, এবং এটি সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিদের কথিত পাচার করা অর্থের পরিমাণ নির্দেশ করে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে, অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত শ্বেতপত্র কমিটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক হিসাবে জানিয়েছিল, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পাচার করা অর্থ মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারত এবং বিভিন্ন ট্যাক্স হেভেনের মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ এখনো এআইওই-তে অঙ্গীকার করেনি

এক সময় গ্রাহকের গোপনীয়তা রক্ষায় বিখ্যাত সুইস ব্যাংকগুলো স্বচ্ছতার দিকে এগিয়ে গেছে। ২০১৮ সাল থেকে চালু হওয়া অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন (এআইওই)-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধে অর্থ পাচার ঠেকানোর কাজ করছে দেশটি।

এই তথ্য বিনিময়ের ফলে ক্যান্টোনাল কর কর্তৃপক্ষ যাচাই করতে পারে, করদাতারা বিদেশে থাকা তাদের আর্থিক হিসাব ট্যাক্স রিটার্নে সঠিকভাবে উল্লেখ করেছেন কিনা। এর মধ্যে পরিচয়, হিসাব ও আর্থিক তথ্য বিনিময় করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে নাম, ঠিকানা, বসবাসের দেশ ও কর সনাক্তকরণ নম্বর, পাশাপাশি প্রতিবেদনকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান, হিসাবের ব্যালেন্স ও মুনাফা সংক্রান্ত তথ্য।

২০২৫ সালে সুইস ফেডারেল ট্যাক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফটিএ) এআইওই-এর গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডের আওতায় ১০১টি দেশের সঙ্গে প্রায় ৩৪ লাখ আর্থিক হিসাবের তথ্য বিনিময় করেছে।

২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ওইসিডির গ্লোবাল ফোরাম অন ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন ফর ট্যাক্স পারপোজেস-এর সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখনো এআইওই-তে অঙ্গীকার করেনি, যেখানে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান এরই মধ্যে এই তথ্য বিনিময়ে যুক্ত হয়েছে।


আমার বার্তা/এমই