৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল ও গৃহঋণে সিঙ্গেল ডিজিট সুদ চান আবাসন ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ১৭:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে আবাসন খাত সচল রাখতে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল সহায়তা চেয়েছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনা সহজ করতে গৃহঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মুস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা জানান রিহ্যাবের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, চলমান ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের আবাসন খাতেও। এই পরিস্থিতিতে, নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং খাতটিকে সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল সহায়তার আবেদন করা হয়েছে। গভর্নর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

রিহ্যাব সভাপতি আরও বলেন, খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান মানুষের মৌলিক চাহিদা। এই মৌলিক চাহিদা পূরণে সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্প সুদের গৃহঋণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে গৃহঋণের সুদের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেকের পক্ষেই বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ কারণে গৃহঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার সুযোগ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৈঠকে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে আবাসন খাতের উন্নয়নে আরও কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— গ্রিন বিল্ডিং, সৌরবিদ্যুৎ এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণে বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা চালু করা, জেলা ও উপজেলা শহরে আবাসন প্রকল্পে বিশেষ অর্থায়নের ব্যবস্থা করা, এবং ঢাকার ওপর চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা শহরে কম সুদে আবাসন ঋণের সুবিধা প্রদান।

রিহ্যাবের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরবরাহকৃত তালিকায় আবাসন বা নির্মাণ খাতকে অনুৎপাদনশীল খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং এখানে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনাও নেই। তাই আবাসন খাতকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাত আরও গতিশীল হবে, সাধারণ মানুষের জন্য বাসস্থান ক্রয় সহজ হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


আমার বার্তা/এমই