ডিএসইর খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার দাবি
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৩২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানির খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছে পুঁজিবাজারের ষ্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) খন্দকার রাশেদ মাকসুদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানায়।
চিঠিতে সাইফুল ইসলাম বলেন, ডিএসই বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ২২টি খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস অনুসরণ করছে—যার মধ্যে সরকারি ও কর্পোরেট বন্ড এবং মিউচুয়াল ফান্ড অন্তর্ভুক্ত, তা বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বর্তমান বৈশ্বিক পুঁজিবাজার বাস্তবতার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ পুঁজিবাজার এখন গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন স্ট্যান্ডার্ড (জিআইসিএস) অথবা ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন বেঞ্চমার্ক (আইসিবি) অনুসরণ করছে; যা খাতভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণকে অধিক স্বচ্ছ, তুলনাযোগ্য ও কার্যকর করে তোলে।
ডিবিএ চিঠিতে বিদ্যমান শ্রেণিবিন্যাসের কয়েকটি অসংগতির উদাহরণ তুলে ধরে। যেমন— ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড বর্তমানে ‘ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যান্ড কেমিক্যালস’ খাতে এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ‘ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড’ খাতে তালিকাভুক্ত, যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী উভয় কোম্পানি ‘কনজ্যুমার স্ট্যাপলস’ খাতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া যৌক্তিক। একইভাবে ওয়ালটন, সিঙ্গার, বাটা ও এপেক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘কনজ্যুমার ডিসক্রিশনারি’ খাতে শ্রেণিবদ্ধ করা হলে তাদের প্রকৃত ব্যবসায়িক চরিত্র ও ভোক্তা চাহিদা নির্ভরতা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।
ডিবিএর মতে, খাতভিত্তিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ অর্থনৈতিক প্রবণতা, ভোক্তা আচরণ ও আয় বৃদ্ধির ধারা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি পুরোনো বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রেণিবিন্যাস কাঠামো এসব বিশ্লেষণের কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করে। ডিবিএ আরও উল্লেখ করে যে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস গ্রহণ করলে বাজারের স্বচ্ছতা বাড়বে, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তুলনাযোগ্যতা তৈরি হবে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের পুঁজিবাজার একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক সূচক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে।
ডিবিএ বিএসইসির কাছে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ডিএসইর খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা, আস্থা, বিশ্লেষণগত গভীরতা ও বৈশ্বিক সংযুক্তি আরও সুদৃঢ় করবে।
আমার বার্তা/এল/এমই
