ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ কোটি টাকারও বেশি বিমা দাবি পরিশোধ

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:০০ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

অভিভাবকের মৃত্যু বা আকস্মিক অসুস্থতার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন যেন মাঝপথে থমকে না যায়, সে লক্ষ্যে এক অনন্য ও মানবিক নজির স্থাপন করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)। 

নিজস্ব ‘স্টুডেন্ট গার্ডিয়ান ইন্স্যুরেন্স পলিসি’র আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন পর্যন্ত ৫০৪ জন অভিভাবকের অনুকূলে ১৫ কোটি টাকারও বেশি বিমা দাবি পরিশোধ করেছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটি ক্যাম্পোসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিমা সুবিধার নতুন কিস্তি হস্তান্তর করা হয়।

‘গার্ডিয়ান ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম চেক হ্যান্ডওভার সিরিমনি’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়টির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।

অনুষ্ঠানে তিন ধাপে ১০২টি চেক এবং সর্বমোট ৩ কোটি ৬ লাখ টাকা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। 

উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত মোট ৫০৪ জন অভিভাবকের অনুকূলে ১৫ কোটি টাকারও বেশি বিমা দাবি পরিশোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিমার এই যুগান্তকারী ব্যবস্থা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে প্রথম ও এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীর অভিভাবকের অকালমৃত্যু কিংবা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ফলে সৃষ্ট আর্থিক সংকটে যেন শিক্ষাজীবন ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ডক্টর এম আর কবির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, অভিভাবক হারানো শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে শিক্ষার্থীরা যেন তাদের শিক্ষা ও স্বপ্নের পথে অবিচল থাকে, বিশ্ববিদ্যালয় সেই পরিবেশ নিশ্চিত করছে। এই সহায়তা তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে এবং মনে করিয়ে দেবে যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সব সময় তাদের পাশে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) ডক্টর মো. হামিদুল হক খান তার বক্তব্যে এই উদ্যোগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভিশনারি লিডার ও ড্যাফোডিল পরিবারের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের দূরদর্শী চিন্তার ফসল এই উদ্যোগ, যা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে প্রথম। অর্থের অভাবে যাতে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন মাঝপথে ঝরে না যায়, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

তিনি আরও যোগ করেন, হারানো বাবা-মাকে কখনো ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, তবে এই কঠিন সময়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস ও শক্তি জোগাতে ড্যাফোডিল এবং প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স সব সময় বদ্ধপরিকর।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. শামসুল আলম।

এ ছাড়া উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শুরু থেকেই শিক্ষার্থী কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই ধরনের উদ্যোগ দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীবান্ধব ও মানবিক নীতিমালার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে।

আমার বার্তা/এল/এমই