মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ, ভারতে কাঁদছে বিক্রেতা
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১১:২৯ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

ভারতের পেঁয়াজ বাজার সাম্প্রতিক সময়ে মন্দার মুখোমুখি। বিশেষ করে দেশের অন্যতম বড় ক্রেতা বাংলাদেশ এ খাতে আগের মতো সাড়া দিচ্ছে না।
সৌদি আরবও ভারতীয় পেঁয়াজ থেকে মুখ ফিরিয়ে দিয়েছে। এর ফলে ভারতের রপ্তানিকারকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
ইকোনোমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত স্থানীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য বারবার রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ক্রেতা দেশগুলো বিকল্প উৎস খুঁজেছে।
পাশাপাশি ভারতের বীজ ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো নিজস্ব উৎপাদন বাড়াচ্ছে এবং স্বনির্ভর হচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে ভারতের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে।
ভারতের পেঁয়াজ বিশেষজ্ঞরা জানান, এক সময়ে ভারতের মোট রপ্তানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বাংলাদেশে পাঠানো হতো।
কিন্তু গত আট মাসে ঢাকায় রপ্তানি খুব সীমিত হয়ে গেছে, যদিও বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম আগের তুলনায় তিনগুণ বেশি।
সৌদি আরবও গত প্রায় এক বছর ধরে ভারত থেকে পেঁয়াজ কিনছে না। একসময় বাংলাদেশের চাহিদা ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য বড় আয়ের উৎস ছিল, কিন্তু এখন তাদের পণ্যের বিক্রিতে মন্দা দেখা দিয়েছে।
রপ্তানিকারকরা অভিযোগ করছেন, ভারতীয় বীজ অবৈধভাবে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে সেসব দেশ স্বনির্ভর হয়ে উঠছে এবং ভারতের আধিপত্য কমছে।
একজন রপ্তানিকারক অজিত শাহ ইকোনোমিক টাইমসকে বলেন, “আমাদের পণ্যের মান ভালো হলেও ক্রেতারা এখন বিকল্প সরবরাহকর্তার দিকে ঝুঁকেছে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীল অবস্থান রাখতে পারিনি। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশরা কম দামে পেঁয়াজ সরবরাহ করছে, তাই ক্রেতারা সেই দিকে যায়।”
ইতিহাসে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ছয় মাসের জন্য এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আরও পাঁচ মাসের জন্য ভারতের সরকার পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
ফলে ভারতীয় রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো নিজেদের বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় বিকল্প উৎসের দিকে চলে যায়। ২০২০ সালে বাংলাদেশ ভারতকে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছিল।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ৭.২৪ লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল, যা তাদের মোট রপ্তানির ৪২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মাত্র ১২,৯০০ টন পেঁয়াজ রপ্তানি হয়েছে।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের সদস্য পাশা প্যাটেল মন্তব্য করেছেন, “আমরা শুধুমাত্র ক্রেতাদের হারাইনি, তারা ভারতীয় বীজ ব্যবহার করে নিজেরাই উৎপাদন বাড়াচ্ছে।”
এছাড়া ইয়েমেন ও ইরান থেকে কমদামে পেঁয়াজ পাওয়ায় সৌদি আরব ভারত থেকে পেঁয়াজ কিনছে না। অপরদিকে ফিলিপাইন ভারতের বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে বিবেচনা করছে। সূত্র: ইকোনোমিক টাইমস
আমার বার্তা/জেএইচ
