২৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৪, ১৯:১৫ | অনলাইন সংস্করণ
মো. রাজিব উদ্ দৌলা চৌধুরী:

বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৪ উদ্যাপন করা হবে। এ বছর এই দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “মিলে নবীন পুরোনো অংশীজন, কাস্টমস করবে লক্ষ্য অর্জন”।
একটি দক্ষ ও গতিশীল রাজস্ব প্রশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির ৭৬ নং আদেশের মাধ্যমে ১৯৭২ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণ করে একদিকে যেমন দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে, অপরদিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশের শিল্পায়নে সহায়তা,কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিতকরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজনের অভিমত।
আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস সংক্রান্ত নীতিমালা বিশ্লেষণের লক্ষ্যে ১৯৪৭ সালে ১৩ টি ইউরোপিয়ান দেশ কর্তৃক একটি স্টাডি গ্রুপ তৈরির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এই সিদ্ধান্তের আলোকে গঠিত হয় কাস্টমস কো অপারেশন কাউন্সিল। এর প্রথম আন্তর্জাতিক সভা ১৯৫৩ সালের ২৬ জানুয়ারি ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হয়।এই সংস্থাটি ১৯৯৪ সালে বিশ্ব কাস্টমস সংস্থা (WCO)নামে আত্মপ্রকাশ করে।
এর প্রথম সভার দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার অভিপ্রায়ে ২০০৯ সাল হতে প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উদ্যাপিত হয়ে আসছে। ১৯৯৪ সাল হতে বাংলাদেশ WCO এর সক্রিয় সদস্য। এবছরের দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে "মিলে নবীন- পুরোনো অংশীজন, কাস্টমস করবে লক্ষ্য অর্জন"। বাংলাদেশও বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- অস্ত্র, মাদকদ্রব্য, নকল মুদ্রা ইত্যাদি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ রোধ করা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের মাধ্যমেও বাংলাদেশ কাস্টমস রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে।
দেশীয় শিল্পের বিকাশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অব্যাহতি বা রেয়াতি হারে কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির সুবিধা প্রদান করে আসছে।আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় পণ্য উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জনে দেশি বিদেশি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ক্ষেত্রে শুল্ক সুবিধাসহ প্রণোদনা প্রদান করছে। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিবিধ ট্যারিফ সুবিধা ও কর ছাড় প্রদান করেছে।
এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বাংলাদেশ কাস্টমসের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নানামুখী সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা(এসডিজি) ২০২৬ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যাত্রা, ২০৩১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর, ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করতে বাংলাদেশ কাস্টমসের সময়োপযোগী সংস্কার ও আধুনিকায়ন অতীব জরুরি।
পাশাপাশি প্রয়োজন আধুনিক জনবল।রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুমিনের সভাপতিত্বে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী নতুন রাজস্ব ভবনে দিবসটি উদ্যাপন করবেন।
আমার বার্তা/এমই
