টানা বর্ষণে কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ১৯:২২ | অনলাইন সংস্করণ

  কুতুবদিয়া

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণে বিস্তীর্ণ জনপদ পানিতে ডুবে গেছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য গ্রাম ও সড়ক প্লাবিত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বাড়িঘর, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো পরিবার।

স্থানীয়দের দাবি, অতিবৃষ্টির পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট ও কালভার্ট দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে এসব স্থানে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করায় জমে থাকা পানি দ্রুত নামতে পারছে না, ফলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের পূর্ব তাবালেরচর, আনিছর ডেইল ও জেলে পাড়া; বড়ঘোপ ইউনিয়নের বদাইয়ার পাড়া, মনোহরখালী, মিয়ার ঘোনা, আজম কলোনি, কালাইয়া পাড়া ও দক্ষিণ অমজাখালী; কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মলমচর, কিল্লার পাড়া ও নজর আলী মাতবর এলাকা; লেমশীখালীর মতির বাপের পাড়া, চিন্নি খাইয়ে পাড়া, শাহজীর পাড়া, গাইনে কাটা, নয়াঘোনা, ধুপি পাড়া; দক্ষিণ ধূরুংয়ের কিল্লার পাড়া ও বাতিঘর এলাকা এবং উত্তর ধূরুংয়ের আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়া, চাটি পাড়া, জইজ্যার পাড়া, ছাদের ঘোনা, জুম্মা পাড়া ও বাকখালী। এর মধ্যে বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনিতে কোমরসমান পানি জমে বহু পরিবার চরম সংকটে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জলাবদ্ধতা দীর্ঘায়িত হওয়ায় মানুষের চলাচল, শিক্ষা কার্যক্রম এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বড়ঘোপ ইউনিয়নের বাসিন্দা রেজাউল হাসান, ফরিদ আহমেদ ও শফিক বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টির পরও পানি না নামায় স্লুইসগেট ও কালভার্টের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদি কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে পানি চলাচলে বাধা দিয়ে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। কৃষক হারুন জানান, প্রবল বৃষ্টির প্রথম রাতেই তাঁর বসতঘর পানিতে তলিয়ে যায়। ঘরের আসবাবপত্রের বড় অংশ ভেসে যায় এবং সামান্য কিছু জিনিসপত্র রক্ষা করতে সক্ষম হন। বর্তমানে পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। শুধু ঘরবাড়িই নয়, তাঁর মাছের ঘেরও পানিতে ভেসে যাওয়ায় জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে এখন তিনি দিশেহারা। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দ্রুত কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনও সক্রিয় রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, স্লুইসগেট ও কালভার্টে যেন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত তদারকি করছে। তিনি আরও জানান, পানিবন্দি পরিবারের জন্য শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে, যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।