মনু ও ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে মৌলভীবাজারে ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ১৩:১৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

দুই দিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষাবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে জেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে এবং সড়কের কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। পানির স্রোতে আউশখেত ও শাকসবজির ক্ষতি হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার রাত ১০টার দিকে কমলগঞ্জের ধলাই নদীর সীমান্তবর্তী ইসলামপু ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে উপজেলার ইসলামপুর, আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের মখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরিগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালায়েরবিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দের গাঁও, তেঁতইগাও, ভানুবিল ঘোরামারা গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় বিএসএফ’র বাঁধার কারণে মখাবিল এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামত করতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকাদিয়ে মনু নদীর প্রতিরক্ষাবাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে করে টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, কান্দিরপুল, একামধু, হরিপাশা, গনেশপুর, আকুয়াসহ বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।
বন্যার পানির স্রোতে জেলার কমলগঞ্জ, রাজনগর উপজেলাসহ বেশকিছু এলকায় কৃষকদের রোপিত আউশখেত এবং সবজি খেত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষকরা। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতি আরো বাড়তে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে মনু ও ধলাই নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে মনু ও ধলাই নদীর দুটি স্থানে প্রতিরক্ষাবাঁধ ভেঙেছে। কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে মনু ও ধলাই নদীর কয়েকটি ঝুকিপূর্ণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
অতি বর্ষণের কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে কমলগঞ্জের মাধবপুর ভায়া শ্রীমঙ্গলে যাতায়াত সড়কে নুরজাহান চা বাগানের গোয়ালবাড়ি নামক স্থানে একটি কালভার্ট ধ্বসে পড়েছে। আদমপুর-ইসলামপুর সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে।
শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া অধিদপ্তর সিনিয়র পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯১ মিলিমিটার, বুধবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত ৭৯ মিলিমিটার, এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
টেংরা ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সানুর মিয়া বলেন, আমরা চেষ্টা করছি বাঁধ রক্ষার জন্য। তবে পানি বেড়ে যাওয়ায় তা আর রক্ষা করা যায়নি। কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
আউশধান ও সবজির ক্ষতির বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, বৃষ্টির কারণে ঢল নেমে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। পানি থাকায় ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পানি নামলে বোঝা যাবে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, টানা বৃষ্টি ও ধলাই নদীর ভাঙনে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে। বন্যা প্লাবিত এলাকায় শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া বন্যার বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, বিকেলের দিকে উজিরপুর এলাকা দিয়ে মনু নদীর ভাঙন দেখা দেয়। কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। বন্যার্থদেরকে শুকনো খাবার দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীর মখাবিল এলাকা ও মনু নদীর উজিরপুর এলাকা দিয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় বিএসএফের বাঁধায় ধলাই নদীর মখাবিলের এই অংশটুকুতে কাজ করানো সম্ভব হয়নি। আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি বন্য পরিস্থিতি ও নদীগুলোর দিকে। মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহীত হচ্ছে। যেসব স্থানে ঝুকিপূর্ণ বাঁধ আছে এগুলো মেরামতের চেষ্টা চলছে।
