হঠাৎ জমিদার হাসান ফরাজি
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ১৬:০০ | অনলাইন সংস্করণ
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:

পুরো নাম মেহেদী হাসান ফরাজি, কর্মরত ভুমি অধিগ্রহণ শাখা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মুন্সিগঞ্জ। পদবি ট্রেসার ( ম্যাপ ও স্কেচ প্রস্তুতকারী) । বেতন সর্বসাকুল্যে হাজার ত্রিশ হবে, কিন্তু ইতিমধ্যে তিনি মালিক হয়েছেন নুন্যতম অর্ধশত কোটি টাকার। নিজ গ্রাম গজারিয়া উপজেলার ইসমানীর চরের মসজিদের পাশে নির্মাণ করেছে বিলাশ বহুল বাড়ী৷ স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে বাড়ীটিতে ইন্টেরিয়র বাবদ খরচ করেছে সত্তর থেকে আশি লাখ টাকার উপরে । যদিও বাড়ীটি দোতলা তারপরও সব মিলিয়ে এই বাড়িটি নির্মাণ বাবদ খরচ হয়েছে নুন্যতম দুই কোটি টাকার উপরে । এছাড়া বলাকী, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে কিনে রেখেছে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি।
এদিকে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে জেলা প্রশাসকের এল এ শাখায় মি : ৫% পার্সেন্ট হিসাবে পরিচিত মেহেদী হাসান ফরাজি। অবশ্য এই ৫% পার্সেন্টের ভাগীদার তিনি একা নয় , তার সাথে রয়েছে ভুমি অধিগ্রহণ শাখায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যার নেতৃত্বে আছে, মি ' ফরাজী। ভুমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলন করতে হলে মোট টাকার এই সিন্ডিকেটকে ৫% পার্সেন্ট দিতে হয়। মুলত ভুমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের গ্রাহকদের একমাত্র আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে এই হাসান ফরাজি । অর্থাৎ তিনি ম্যানেজ, জমি অধিগ্রহণের টাকাও ম্যানেজ। অবশ্য তাকে ম্যানেজ করা ছাড়া গ্রাহকদের ভুমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলন, এটা একটা অসম্ভব কল্পনা কাহিনি ছাড়া আর কিছুই নয়৷ তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে এতটাই ক্ষমতাধর কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই এখানে একটানা চাকরি করছে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ।
বিশেষ করে তার এই চাকরি জীবনের সময়কালীনে গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকার শতশত বিঘা জমি অধিগ্রহণ গ্রহণ করেছে । এদের অধিকাংশ গ্রাহকের জমি অধিগ্রহণের টাকা তার হাত ধরেই উত্তোলন হয়েছে , বিনিময়ে ফরাজি সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিয়েছে ৫% পার্সেন্টের নামে শত শত কোটি টাকা। ঘুষ অনিয়ম ও দুর্নীতি করে ফরাজি সিন্ডিকেটের সকল সদস্যেরা মালিক বনে গেছে শত কোটি টাকার টাকার । ( পরবর্তী পর্বে থাকছে মেহেদী হাসান ফরাজির বিভিন্ন অনিয়ম ও তার সম্পদের আংশিক খতিয়ান)
আমার বার্তা/এমই
