সরকারের সিদ্ধান্তে জঙ্গল-সলিমপুরে হচ্ছে দুটি পুলিশ একাডেমি: এসপি মাসুদ

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ১৪:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল-সলিমপুর এলাকায় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুটি পুলিশ একাডেমি গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেছেন, বর্তমানে সেখানে অস্থায়ীভাবে দুটি পুলিশ ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে এবং যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এলাকাটি প্রশাসনের কার্যকর নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন, জঙ্গল-সলিমপুর সম্পর্কে আগে তার ধারণা ছিল, এটি যেন ‘দেশের ভেতর আরেক দেশ’। তবে সাম্প্রতিক যৌথ অভিযানের মাধ্যমে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখানে একটি পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে অন্য কোনো পক্ষ যাতে সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়েও আমরা সতর্ক আছি। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেখানে দুটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

সভায় পুলিশের সেবার মান ও সদস্যদের জবাবদিহিতার বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান এসপি মাসুদ আলম। তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুলিশ বাহিনী বড় ধরনের ধকলের মধ্যে পড়ে। বাহিনীর সদস্যদের মনোবল পুনরুদ্ধারে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমার কোনো কর্মকর্তা বা সদস্য কোনো ভুক্তভোগীর অভিযোগ না শোনেন, অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি করেন কিংবা দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চান, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।’

দক্ষিণ চট্টগ্রামে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও চাঁদাবাজির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশ সুপার বলেন, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও বাঁশখালীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ চক্র নানা কৌশলে অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটাচ্ছে। এসব অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাসুদ আলম বলেন, এলাকাটি সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি ধারণা নেওয়া হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সেখানে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা ছাড়া তো যুদ্ধে নামা সম্ভব নয়। নামলে পরাজিত হয়ে আসা ছাড়া উপায় থাকে না। আমরা চাই পরিকল্পনামাফিক অভিযান পরিচালনা করে রাউজানকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে।’