বাবা ও ছোট ভাই হত্যার ঘটনায় বড় ছেলে সোহান গ্রেপ্তার
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন উত্তর বনমালা এলাকায় সোহেল রানা ও তার ছোট ছেলে সাকিব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনকল, ঘটনাস্থলের আলামত এবং তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য মিলিয়ে এখন পুরো ঘটনাটি একটি সুপরিকল্পিত ও জটিল বলে পুলিশের ধারণা। এ ঘটনায় সোহেল রানার বড় ছেলে সোহানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে দিবাগত রাত ৩টায় বনমালা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ড কেন্দ্রবিন্দুতে বড় ছেলে সোহানকে (২৮) সন্দেহ করা হচ্ছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, রাতের কোনো এক সময় ঘরের ভেতর ঘুমন্ত অবস্থায় ছোট ভাই সাকিব (১৮)কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘরের ভেতর কোনো বড় ধরনের শব্দ না হওয়ায় স্থানীয়রা কিছুই টের পাননি বলে জানা গেছে।
এরপর তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ। ওই ফুটেজে দেখা যায়, সোহেল রানা (৫০) তার বড় ছেলে সোহান এবং আরও এক ব্যক্তি রেললাইনের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন। ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেই সময় সোহেল জীবিত ছিলেন এবং নড়াচড়া করছিলেন, তবে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় ছিলেন।
সোহেল রানাকে রেললাইনের কাছে নিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো একটি দৃশ্য ফুটেজে ধরা পড়েছে। কিছুসময় পরই রেললাইনের ওপর তার মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি ট্রেনের ধাক্কায় মারা গেছেন নাকি পরিকল্পিতভাবে রেললাইনে ফেলে হত্যা করা হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বড় ছেলে সোহানের আচরণ। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে না গিয়ে বরং আশপাশের স্বজনদের ফোন দেন। তার ফোনকল ও বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের মতে, এটি ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার একটি চেষ্টা হতে পারে।
এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজে তার উপস্থিতি ও গতিবিধি সন্দেহজনকভাবে ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে আরেকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘মাদানী আলিফ’ নামে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে তার পরিচয় ও ভূমিকা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
ঘটনার পর গুজব ছড়ানো হয়, সোহেল নাকি তার ছেলে সাকিবকে হত্যা করে রেললাইনে ফেলে দিয়েছেন। কিন্তু তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী ঘটনার বিপরীত চিত্রই ধীরে ধীরে সামনে আসছে। পরবর্তীতে সন্দেহজনক ভূমিকা ও প্রমাণের ভিত্তিতে বড় ছেলে সোহানকে আটক করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম) মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং স্পর্শকাতর। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ডেটা, ফরেনসিক রিপোর্টসহ সব দিক গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছি। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের মতে, পরিবারটিতে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি, মানসিক চাপ এবং নেশাজনিত সমস্যা চলছিল। একই রাতে দুইজনের মৃত্যু এবং একজনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুরো বনমালা এলাকায় নেমে এসেছে শোক, আতঙ্ক ও বিস্ময়।
