দারিদ্র্যের চাপে নিঃস্ব, শেষ বয়সে আশ্রয়ের খোঁজে রহিমা বেগম
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের কৈয়ারা গ্রামে এক অসহায় বৃদ্ধা নারী নীরবে লড়াই করে যাচ্ছেন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে। তার নাম রহিমা বেগম। স্বামী বশর মিয়ার মৃত্যুর পর থেকেই তার জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা ও দুঃখ-কষ্টের এক দীর্ঘ অধ্যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় স্বামী-সংসার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ তিনি সম্পূর্ণ একা। তার তিন মেয়ে থাকলেও দারিদ্র্যের কারণে তাদের কেউই মায়ের দায়িত্ব নেওয়ার মতো অবস্থানে নেই। মেয়েদের বিয়ের খরচ জোগাতে গিয়ে নিজের একমাত্র সম্পদ-বসতভিটার জমিটুকুও বিক্রি করে দেন রহিমা বেগম। ফলে আজ তার নিজের মাথা গোঁজার মতো কোনো স্থায়ী আশ্রয়ও অবশিষ্ট নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একটি জরাজীর্ণ স্থানে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন এই বৃদ্ধা। নেই পর্যাপ্ত খাবারের নিশ্চয়তা, নেই চিকিৎসার সুযোগ কিংবা নিরাপদ বাসস্থান। বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর নিয়ে প্রতিদিনই সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাকে। অনেক সময় দুবেলা খাবার জোগাড় করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
রহিমা বেগম চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে জানান, তার জীবনে এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তিনি শুধু শেষ বয়সে একটি নিরাপদ আশ্রয় চান, যেখানে অন্তত শান্তিতে বাকি দিনগুলো কাটাতে পারবেন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও সহৃদয় মানুষের কাছে তার একটাই আবেদন-একটু সহানুভূতি ও সহায়তা।
এলাকাবাসীর মতে, একজন বয়স্ক ও অসহায় নারী হিসেবে রহিমা বেগমের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি স্থায়ী বাসস্থান এবং নিয়মিত সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, সরকারি উদ্যোগ কিংবা বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা পেলে তার জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহলও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের অংশ।
মানবিক এই সংকটে রহিমা বেগম যেন এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন-যেখানে দারিদ্র্য, অসহায়ত্ব এবং সামাজিক অবহেলার এক নির্মম বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, তার এই আর্তনাদ সমাজ ও প্রশাসনের কানে পৌঁছায় কি না, এবং তিনি তার শেষ বয়সে একটু স্বস্তির ছোঁয়া পান কি না।
