খিলগাঁওয়ে তালাবদ্ধ বাসায় চুরি

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

  Amarbarta Online

রাজধানীর খিলগাঁও থানা এলাকায় একটি বাসায় তালা ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, এলইডি টেলিভিশন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী মোঃ শহিদুল হক (৪০), পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি খিলগাঁও থানাধীন পূর্ব গোড়ান এলাকার বাসা নং-২৮ এ পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ৮টা থেকে ১০টা ৬ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা তার বাসার দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
 
ঘটনার সময় শহিদুল হক দোকানে ছিলেন, তার স্ত্রী কর্মস্থলে এবং মেয়ে নানার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বাসাটি তালাবদ্ধ ছিল। এই সুযোগে চোরেরা ঘরে ঢুকে আলমারি ও অন্যান্য জিনিসপত্র তছনছ করে নগদ ২৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পাশাপাশি তার স্ত্রী ও মেয়ের ব্যবহৃত প্রায় দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার- গলার চেইন, হাতের আংটি ও মাথার টিকলি—চুরি করে নেয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
 
এছাড়া ঘরে থাকা ৩২ ইঞ্চির একটি এলইডি টেলিভিশন, যার মূল্য আনুমানিক ৩৩ হাজার টাকা, সেটিও নিয়ে যায় চোরেরা। শুধু তাই নয়, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও চেক বইও খুঁজে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতের পর মেয়েটি নানার বাড়ি থেকে বাসায় ফিরে এসে ঘরের ভেতর জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পায়। দরজার তালা ভাঙা এবং মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখে সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তার বাবাকে জানায়। পরে শহিদুল হক বাসায় এসে বিস্তারিত দেখে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন।
 
ভুক্তভোগীর দাবি, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র মিলিয়ে মোট প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পারিবারিক আলোচনা শেষে তিনি খিলগাঁও থানায় হাজির হয়ে অজ্ঞাতনামা চোরদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে খিলগাঁও থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসীর মধ্যে এ ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তালাবদ্ধ বাসায় চুরির ঘটনা বেড়েছে, ফলে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে।
 
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।