আমরা কারও প্রতিপক্ষ নই, আমরা আইনের পক্ষে: চট্টগ্রাম এসপি
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেছেন, আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজন ছাড়া কোনো অবস্থাতেই বলপ্রয়োগ করা যাবে না। তবে কেউ আইন ভঙ্গের চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করা যাবে না।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জেলা পুলিশ লাইন্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন দায়িত্বে নিয়োজিত মোবাইল ও স্ট্রাইকিং পার্টির অফিসার্স ও ফোর্সদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, নির্বাচনী পরিবেশে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত, বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। আমরা কারও প্রতিপক্ষ নই, আমরা আইনের পক্ষে। আমাদের আচরণেই প্রমাণ হবে বাংলাদেশ পুলিশ একটি নিরপেক্ষ, দক্ষ ও জনগণ বান্ধব বাহিনী।
তিনি বলেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে, ভয়ভীতি ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—এটাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনকালে শালীন আচরণ, ধৈর্য ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের উসকানি, প্ররোচনা বা চাপের মুখে পড়ে আবেগতাড়িত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না।
উপস্থিত অফিসার ও ফোর্সদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার বলেন, আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে—এ বিষয়ে আমি আশাবাদী। সততা, শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ব্রিফিংকালে নির্বাচনকালীন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং পার্টির দায়িত্ব সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়। মোবাইল পার্টি ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল দিয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করবে। তারা ভোটারদের নিরাপদ ও ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগে সহায়তা করবে এবং যে কোনো বেআইনি কার্যক্রম, ভীতি প্রদর্শন বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রয়োজনে প্রিজাইডিং অফিসার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহায়তা প্রদান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক অবহিত করবে।
স্ট্রাইকিং পার্টি নির্বাচনকালীন কুইক রেসপন্স দল হিসেবে গুরুতর বা আকস্মিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সহিংসতা, সংঘর্ষ বা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা নিয়ন্ত্রণ করবে। পাশাপাশি ভোটার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, আজ (রোববার) থেকে ১১৯টি মোবাইল ও ৩০টি স্ট্রাইকিং টিমে ৬২৬ জন পুলিশ সদস্য ১৭টি থানা এলাকায় নিয়োজিত হবেন।
আমার বার্তা /জেএইচ
