শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে: শিক্ষা উপদেষ্টা
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৮:১৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেছেন, শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে রাজনৈতিক কলুষতা আনার কোনো মানে হয় না। শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের বড় ভূমিকা রয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে ‘শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ এবং ফরিদপুরে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন। ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এর জন্য যে পরিমাণ সম্পদ ও অর্থ বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিল, তা আমরা দিতে পারিনি। বর্তমান সরকার ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থায় ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। তারপরও আমরা সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল ও অবসরভাতা তাদের প্রাপ্য। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে দিতে চাই। আগে এই কাজগুলো স্বেচ্ছাচারীভাবে করা হয়েছে। এ কারণে এই টাকা শিক্ষকদের সময়মতো দেওয়া যাচ্ছে না। আমাদের হাতে টাকা থাকলে দিতে সমস্যা ছিল না। কিন্তু যে ব্যাংকে টাকা রাখা হয়েছিল, সেই ব্যাংকে টাকা নেই। খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে আমাদের চলতে হচ্ছে।
সি আর আবরার বলেন, শিক্ষকরা পথপ্রদর্শক— তারা আলো জ্বালান। মা–বাবা অভিভাবকরা শিক্ষকদের হাতে সন্তানদের তুলে দেন। তাই শিক্ষা পরিবারের দায়িত্ব অপরিসীম। শিক্ষার্থীদের শুধু অক্ষরজ্ঞান শেখালে হবে না, নৈতিকভাবে তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যাতে তারা নিজেদের ঋদ্ধ করতে পারে, স্বপ্ন দেখতে পারে এবং দেশ, দশ ও পৃথিবীর জন্য কিছু দিতে পারে।
শিক্ষক রাজনীতির কলুষিত দৃষ্টান্ত তুলে ধরে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকার কারণে কীভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট হয়েছে, তা উচ্চপর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। আমার আহ্বান থাকবে—যারা রাজনীতি করতে চান অবশ্যই করবেন, কিন্তু শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে রাজনীতি দিয়ে কলুষিত করার কোনো মানে হয় না। আমরা মনে করি শিক্ষাকেন্দ্রগুলো রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে। এ ব্যাপারে শিক্ষকদের বড় দায়িত্ব রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাউশির ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক ফকীর মোহাম্মদ, বি এম আব্দুল হান্নান, যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এবিএম সাত্তার, অধ্যাপক রিজভী জামান, অধ্যাপক কাকলি মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মৃধা রেজাউল।
আমার বার্তা/এমই
