আশানুরূপ উৎপাদন হলেও হতাশ মানিকগঞ্জের পাট চাষিরা
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১১:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

আশানুরূপ পাট উৎপাদন হলেও উৎপাদন খরচ বাড়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ না হওয়ায় হতাশ মানিকগঞ্জের কৃষকরা। তাই চাষিদের কথা মাথায় রেখে রফতানি বাড়াতে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেয়ার কথা জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এদিকে, পাটের ব্যবহার বাড়াতে প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস কৃষি উপদেষ্টার।
মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ঘিওরের পাটের হাট। প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই হাট ভোর থেকেই হয়ে ওঠে জমজমাট। রিকশা, ভ্যান আর ছোট ছোট যানবাহনে করে আনা সোনালি আঁশে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো হাট। চলতি মৌসুমের পাট বেচাকেনায় এখন সরগরম ঐতিহ্যবাহী এই হাটটি।
হাটে মণপ্রতি পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকায়। তবে উৎপাদন খরচ বাড়ায় কম লাভ হওয়ার কথা জানান কৃষকরা। তারা বলছেন, শ্রমিকের ব্যয় বেশি, পাশাপাশি সার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বেড়েছে। তাই পাটের দাম বাড়লে কৃষকের জন্য ভালো হয়।
রায়হান নামের এক কৃষক বলেন, ‘পাট ধোয়া, কাটা, শুকানো-সব কাজেই প্রচুর শ্রম দিতে হয়। শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে, অথচ পাটের দাম বাড়েনি। ফলে লাভের অংশ প্রায় থাকেই না।’
আরেক কৃষক নুর ইসলাম জানান, ‘সারা বছর পরিশ্রম করেও ন্যায্য দাম পাই না। দেশে পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদেশে রফতানি নিশ্চিত করলেই কৃষক উপকৃত হবে।’
হাটের ব্যবসায়ী ও পাইকাররা জানান, দেশের অভ্যন্তরে পাটকলগুলোতে চাহিদা থাকায় স্থানীয়ভাবে বিক্রি হচ্ছে পাট। আশপাশের জেলাতেও মানিকগঞ্জের পাট যাচ্ছে।
তবে হাটে কোনো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সমস্যা হচ্ছে বলে জানান ইজারাদার মো. কাউসার। তার অভিযোগ, টিউবওয়েল বা টয়লেট না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এদিকে, শুধু দেশের বাজারই নয়, আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. রবীআহ নূর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘পাট রফতানি বাড়াতে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ চলছে। কৃষকদের জন্য প্রণোদনার বিষয়টিও সরকারকে জানানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটের ব্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে চাহিদা বাড়াতে হবে।’
আর পাট বা পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বাড়াতে পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার কমাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বাড়লে একদিকে পরিবেশ রক্ষা হবে, অন্যদিকে রফতানির পথও সুগম হবে।’
জেলা কৃষি অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় ৪ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে ১৭ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
আমার বার্তা/এল/এমই