ডিভোর্স লেটার পেয়ে স্বামীর আত্মহত্যা
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১১:৩০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর শহরে স্ত্রীর ডিভোর্স লেটার পেয়ে মজনু পারভেজ (৩৯) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তাড়াশ পৌর উত্তর ওবদাবাদ এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মজনু পারভেজ তাড়াশ পৌর শহরের মৃত আব্দুস সাত্তার আলীর ছেলে।
নিহত মজনুর স্বজনরা জানান, মজনু পারভেজ ২৫ বছর আগে পাশের বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামের রোকসানা খাতুনকে বিয়ে করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে ১৬ বছর বয়সের এক ছেলে ও ৬ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে অভাবের তাড়নায় উভয়ের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকতো। ঝগড়ার জের ধরে ৩ মাস আগে রোকসানা খাতুন ছেলে মেয়েকে রেখে বাবার বাড়িতে চলে যায়। অনেকবার পারিবারিকভাবে চেষ্টা করেও রোকসানা খাতুনকে আনতে ব্যর্থ হয় মজনু পারভেজ। ৭ দিন আগে রোকসানা খাতুন স্বামী মজনু পারভেজের ঠিকানায় ডিভোর্স দেয়। পরিবারের লোকজন ডিভোর্সের বিষয়টি জানতে পারলেও মজনুকে অবগত করেনি।
শুক্রবার বিকালে ডাকপিয়ন বাসায় এসে ডিভোর্স লেটার চিঠি বাড়িতে দিয়ে যায়। এরপর থেকে মজনু বিষণ্ণতায় ভুগতেন। শনিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তার নিজ ঘরের মধ্যে মজনু পারভেজের মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, মজনু পারভেজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
একটু নজর দিন:
আপনি যদি কখনো মনে করেন, জীবন অসহনীয় হয়ে উঠছে, জেনে রাখুন— আপনি একা নন। সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়, বরং সাহসের কাজ। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, বিশ্বস্ত বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন। যেটা এখন মনে হচ্ছে, তা সাময়িক— সময়, সহায়তা ও কথা বলার মাধ্যমে অনেক কিছু পরিবর্তন সম্ভব। জীবন মূল্যবান এবং এখনও অনেক সুন্দর মুহূর্ত বাকি আছে।
আপনি যদি মানসিক চাপে বা আত্মহত্যার চিন্তায় ভুগে থাকেন, অনুগ্রহ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, কাউন্সেলর বা হেল্পলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সাহায্য চাইতে কখনো দ্বিধা করবেন না।
এ বিষয়ে জরুরি পরামর্শ দেয় ‘কান পেতে রই’। হেল্পলাইন নম্বর: 01779-554391 এবং 01688-709966।
প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত হেল্পলাইনে কথা বলতে পারবেন যে কেউ।
আমার বার্তা/এল/এমই