গুরুদাসপুরের মাছ রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে

বেড়েছে বাণিজ্যিক উৎপাদন বছরে বিক্রি ৬শ কোটি টাকা

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৩, ১৯:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আতিকুর রহমান, গুরুদাসপুর (নাটোর)

পাবদা, সিং, মাগুর, রুই কাতলা। সবই চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিক পুকুরে। স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ ভালো হওয়ায় দেশের গন্ডি পেরিয়ে গুরুদাসপুরের মাছ এখন বিশ্ববাজারে। এখানকার মাছ চাষীরা দেশ বিদেশের বাজারে মাছ বিক্রি করে বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। এ কারণে ক্রমেই বাড়ছে চাষীর সংখ্যাও।

সরকারি-বেসরকারি জরিপ মতে বাণিজ্যিকভাবে পুকুরে চাষ করা কার্প এবং মিশ্র প্রজাতির ২০ হাজার মেট্রিক টন মাছ বিক্রি করে গত বছর এসেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বেশি। চলতি বছর সরকারিভাবে মাছের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১৬ হাজার মেট্রিক টন।

উপজেলার মাছ চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ, ছিলভার, ব্রিগেড, গ্লাসকার্প ব্লাককার্প জাতের মাছ চাষ হয়। একইসাথে প্রতিটি পুকুরে নিবিড় এবং আধা নিবিড় ২ পদ্ধতিতে মিশ্র হিসেবে কই, সিং, পাবদা, গুলসা-টেংড়াসহ বেশ কয়েক প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। এরমধ্যে মিশ্র প্রজাতির সুস্বাদু পাবদা, সিং, পাঙ্গাস মাছ ভারতে রপ্তানি করছেন চাষীরা।

বিদেশে মাছ রপ্তানি করা চাষি আব্দুস সালাম আমার বার্তাকে জানান, বাংলাদেশের মাছ পাশ্ববর্তী ভারতে ব্যাপক চাহিদা জুগিয়েছে। এ কারণে তিনি নিয়মিতই পাবদা, সিং ও পাঙ্গাস মাছ ভারতের বাজারে বিক্রি করেন। এতে তিনি ব্যপক লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে অন্যান্য প্রজাতির মাছও তিনি বিদেশে রপ্তানি করতে চান।

গুরুদাসপুর মৎস্য অফিসের তথ্যমতে ২০২০ থেকে ২৩ সাল পর্যন্ত ৬ হাজার হেক্টর আয়তনের চাষযোগ্য বাণিজ্যিক পুকুর ছিল ১০ হাজারের বেশি। এসব পুকুর থেকে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে মাছ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার মেট্রিক টন। সরকারি এই হিসেবের তুলনায় ব্যপক আকারে গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক পুকুর। এছাড়া  ৯ টি প্রবাহমান নদী, ৩টি খাল, ৬ টি বিল থেকে বছরে প্রায় ১শ মেট্রিক টন এবং ৩০ টি প্লাবন ভূমি থেকে ১ হাজার ১৬ মেট্রিক টন ও অন্যান্য জলাশয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। সবমিলিয়ে ওই বছর মাছ উৎপাদন হয়েছে ১৫ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি। খাল-বিল, নদী, জলাশয়ের মাছ উপজেলার অভ্যন্তরে বাজারজাত করা হয়। এছাড়া চাষের উৎপাদিত সব মাছ-ই সারাদেশের অভ্যন্তরের বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করা হয়। চলতি বছর মাছের উৎপাদন আরো বাড়বে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মৎস্য দপ্তর থেকে গৃহীত পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ২০২১-২২ নাগাদ মাছের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল সাড়ে ১৬ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু বে-সরকারী মাঠ জরিপে ২০২১-২২ সাল নাগাদ  প্রকৃত উৎপাদন ২০ হাজার মেট্রিক টনও ছাড়িয়ে গেছে।

মাছ চাষী রুহুল আমিন মোল্লা আমার বার্তাকে জানান, তারা পোনা মাছ চাষ করেন না। নূন্যতম এক কেজির ওপরে  কার্প প্রাজাতির মাছ ছাড়া হয়। ৬ থেকে ৮ মাস মেয়াদের মধ্যেই মাছগুলো নূনতম আড়াই কেজি থেকে সাড়ে ৪ কেজি পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। আকার ভেদে এসব মাছের পাইকারি বাজারদর ১৫০ টাকা থেকে ৩৫০টা কেজি। 

চাপিলার মাছচাষী শিশির আলী জানান, গুরুদাসপুরের সাথে সারা দেশেরই সড়ক যোগাযোগ সহজলভ্য। ফলে মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে চৌবাচ্চা পদ্ধতিতে ট্রাকের পানিতে জীবন্ত মাছ রাজধানীসহ দেশের অভ্যন্তরের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন তারা। সরাসরি দূরের আড়তে মাছ বিক্রি করতে পেরে বেশি লাভবান হচ্ছেন তারা।

চলনবিল ও জলবায়ু রক্ষা কমিটির সদস্য সহকারি অধ্যপক সাজেদুর রহমান আমার বার্তাকে জানান, দখল-দূষণের ফলে চলনবিলে কমেছে প্রাকৃতিক জলাধার। ফলে আশঙ্কাশজনক হারে কমেছে মিঠা পানির মাছ। তবে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে গড়ে উঠেছে মাছ চাষের পুকুর। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করা হচ্ছে চাষের মাছ। মাছ চাষে এই অঞ্চলের চাষিরা নিরব বিল্পব ঘটাচ্ছেন।

গুরুদাসপুরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রতন চন্দ্র সাহা আমার বার্তাকে বলেন, উপজেলাজুড়ে বছরে মাছের চাহিদা সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন। চাহিদার তুলনায় গুরুদাসপুরে মাছ উৎপাদন হচ্ছে প্রায় তিনগুণ বেশি। এতে ব্যপক লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।

এবি/টিএ