সিঙ্গাপুর হাই কমিশনের সিঙ্গাপুর কুকিং ওয়ার্কশপের মাধ্যমে এসজি৬১ উদযাপন 

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

  রানা এস এম সোহেল

ঢাকায় অবস্থিত সিঙ্গাপুর হাই কমিশন গত ১০ থেকে ১২ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী একটি ‘সিঙ্গাপুর কুকিং ওয়ার্কশপ’-এর সমাপ্তি ঘোষণা করেছে। এই কর্মশালায় ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (এনএইচটিটিআই)-এর ২০ জন অংশগ্রহণকারী তাদের রন্ধনশৈলী প্রদর্শনের পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের সমৃদ্ধ ও বহুসাংস্কৃতিক খাদ্য ঐতিহ্যের প্রতি তাদের উপলব্ধি আরও গভীর করেছেন।

সিঙ্গাপুরের ৬০তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে ২০২৫ সালে আয়োজিত ‘সিঙ্গাপুর কুকিং ক্লাসেস’-এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায়, এ বছরের কর্মসূচিটি রন্ধনশিল্পের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করার জন্য হাই কমিশনের প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রেখেছে। পূর্ববর্তী সেশনগুলো পরিচালনাকারী একই সিঙ্গাপুরীয় শেফের তত্ত্বাবধানে, অংশগ্রহণকারীরা হাইনানিজ চিকেন রাইস, চিলি ক্র্যাব, কুয়ে পাই টি, সিঙ্গাপুর স্পাইসি ভার্মিসেলি, কারি পাফ, ওন্দেহ ওন্দেহ, নাসি লেমাক এবং চিকেন সাতে-সহ বিভিন্ন ধরনের বিখ্যাত সিঙ্গাপুরীয় খাবার তৈরির হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ লাভ করেন।

এই কর্মসূচিটি একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ রান্নার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা তিন দিনব্যাপী কোর্সে অর্জিত কৌশল ও দক্ষতা বিচারকদের একটি প্যানেলের সামনে প্রদর্শন করেন। একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শীর্ষ তিন অংশগ্রহণকারীকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তারা যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের জন্য ১৫,০০০ টাকা, ১২,০০০ টাকা ও ৮,০০০ টাকা নগদ পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও শেষ দুটি দলকে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে ৫,০০০ টাকা করে প্রদান করা হয়। রন্ধনশিল্পের উৎকর্ষকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি, এই পুরস্কারের অর্থ শিক্ষার্থীদের পেশাগত উন্নয়নে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে তারা রান্নাঘরের সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি ক্রয়, উচ্চতর রন্ধন প্রশিক্ষণে ভর্তি, অথবা আতিথেয়তা এবং খাদ্য ও পানীয় শিল্পে সফল কর্মজীবন গড়ার আকাঙ্ক্ষায় বিনিয়োগ করতে পারবে।

হাই কমিশন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুর কুকিং কম্পিটিশনের দ্বিতীয় পর্বের মাধ্যমে এই উদ্যোগটি অব্যাহত রাখবে। এর মাধ্যমে এনএইচটিটিআই-এর উচ্চাকাঙ্ক্ষী শেফদের আরেকটি দল খাঁটি সিঙ্গাপুরের রন্ধনপ্রণালী শেখার, পুরস্কারের জন্য প্রতিযোগিতা করার এবং সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের মধ্যে রন্ধন ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাবে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিঙ্গাপুর হাই কমিশনের চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি পুরো কর্মসূচি জুড়ে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ, সৃজনশীলতা এবং নিষ্ঠার প্রশংসা করেন। এই অনুষ্ঠানটিকে সফল করার জন্য তিনি এনএইচটিটিআই-এর রন্ধন প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান জাহেদা বেগমকে তাঁর নিবেদিত প্রচেষ্টার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

সিঙ্গাপুর হাই কমিশন সাংস্কৃতিক কূটনীতির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের মধ্যে খাদ্য, সংস্কৃতি ও বন্ধুত্বের পারস্পরিক কদরকে উদযাপন করে এমন আরও উদ্যোগ আয়োজনের জন্য উন্মুখ।