যমুনা টিভির সাংবাদিকের উপর হামলা করল সময় টিভি ও ইত্তেফাক

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৪, ১৫:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

  এম রানা:

রাজধানীতে কোটা বিরোধী আন্দোলনের সংবাদ প্রকাশে এগিয়ে থাকতে না পারায় যমুনা টেলিভিশনের মেডিকেল প্রতিবেদক এবং ঢাকা মেডিকেল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমানত আলীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেল তিনটার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে।

দৈনিক ইত্তেফাকের পেট মোটা ওরফে ব্লাড ব্যাংক দালাল বাবু এবং সময় টিভির হায়দার আলী গতকাল সোমবার বিকেলে সাংবাদিকদের বসার কক্ষে সংবাদ লিখতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ যমুনা টিভির সাংবাদিক সৈয়দ আমানত আলীর উপর হামলা চালায় সময় টিভির মেডিকেল প্রতিবেদক হায়দার আলী এবং ইত্তেফাক পত্রিকার মেডিকেল প্রতিবেদক বাবু ওরফে পেট মোটা বাবু। এ সময় বাধা দিতে গেলে ঢাকা মেডিকেল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক মাসুদ রানাকেহ তারা লাঞ্ছিত করেন। সময় টিভি র মেডিকেল প্রতিবেদক হায়দার আলী অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে করতে বলেন,এত বেশি নিউজ করার তোদের কি দরকার, কুত্তার বাচ্চা আরো অন্যান্য অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেন তারা। এ সময় তারা সাংবাদিকদের মোটরসাইকেলের চাবি ও নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর ঢাকা মেডিকেলে আহতদের নিয়ে আসা সমন্বয়কারী আন্দোলনের ছাত্ররা বিষয়টি জানতে পেরে সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে এলে কথিত ওই দুই সাংবাদিক পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তারা এসে আহত দুই সাংবাদিককে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।

ঢাকা মেডিকেল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মাসুদ রানা জানান, একজন সিনিয়র সাংবাদিক হয়ে ইত্তেফাকের বাবু ভাই এবং সময় টিভির হায়দার আলী এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে পারে এটা আমাদের ধারণা ছিল না। এটা সাংবাদিকতার আচরণের পরিপন্থী। এই ঘটনাটি কোন আন্দোলনকারীরা ঘটায়নি।

আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমি আরো তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি একজন সাংবাদিক কখনো আরেকজন সাংবাদিকের কক্ষে তালা ঝুলাতে পারে না। পরে আমি ঘটনাস্থলে অন্যান্য সহকর্মীদের নিয়ে তালা ভেঙে অন্যান্য সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল এবং প্রয়োজনীয় ব্যাগ সহ কাগজপত্র নিজেদের কাছে রাখি। সেই সাথে আমাদের অফিস কক্ষে নতুন আরেকটি তালা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। যেহেতু এই আন্দোলনের সমন্বয়কারী, সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রপতি সহ সকলকে হানাহানি এবং বৈষম্য মূলক আচরণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের সাথে একত্বতা প্রকাশ করে আমি এটাই বলতে চাই, নতুন করে যারা এ ধরনের ঘটনা  ঘটাবে তারা দেশ ও জাতির কাছে চিহ্নিত শত্রু হয়ে থাকবে । ভবিষ্যতে এ ধরনের ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনা ঘটলে সেনাবাহিনীর বিশেষ নম্বরে যোগাযোগ করতে আমাদেরকে বলা হয়েছে।

ডি এম আর ইউর সভাপতি মাসুদ রানা আরো বলেন, আমরা আমাদের সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছি, তারা আমাদের জানিয়েছেন একজন সাংবাদিক কখনো অন্য সাংবাদিকের কক্ষে তালা ঝুলাতে পারে না। আপনারা তালা ভেঙে নিজেদের কক্ষ বুঝে নিন। বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে এই বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনায় বসবো। প্রিয় সহকর্মীরা আপনারা সবসময় ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন এবং নিরাপদে থাকুন। 

 

আমার বার্তা/এমই