অ্যাকাডেমিক মাইগ্রেশনের দাবিতে ঢাকা কলেজের মূল ফটকে তালা
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত থেকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে অ্যাকাডেমিক মাইগ্রেশনের দাবিতে ঢাকা কলেজের মূল ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মূল ফটকের তালা খুলে কর্মসূচি সাময়িক প্রত্যাহার করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ঢাকা কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে অ্যাকাডেমিক মাইগ্রেশনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করার পূর্বে শিক্ষকরা তাদের বাধা দেয়। এর প্রতিবাদে ঢাকা কলেজের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করে একদল শিক্ষার্থী।
এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সেন্ট্রাল আমার অধিকার-রুখে দেওয়ার সাধ্য কার; সেন্ট্রাল আমার ঠিকানা-অ্যাফিলিয়েশন মানি না; সিন্ডিকেটের কালো হাত-ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও; সিন্ডিকেটের দালালেরা-হুঁশিয়ার, সাবধান; রানিং সেশনের দাবি-মানতে হবে, মানতে হবে; অ্যাকাডেমিক মাইগ্রেশন-দিতেই হবে, দিতে হবে; ইত্যাদির স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারী ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, আমরা যতবার আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, প্রত্যেকবার ঢাকা কলেজের এই মুক্ত ময়দান থেকে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির স্লোগান উঠেছে। আজও আমরা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির রানিং সেশন ও অ্যাকাডেমিক মাইগ্রেশনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিলাম। বিভিন্ন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা এখানে এসে অবস্থান করছিলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষা সিন্ডিকেটের একটি দল প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হয়ে আমাদের ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়।
তিনি আরও বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল রানিং সেশনগুলোর অ্যাকাডেমিক জটিলতা নিরসন করা এবং শিক্ষার্থীদের পরিচয়হীনতা দূর করা। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজ-রানিং সেশনগুলোর সমস্যা সমাধান-সেটি না করে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রমসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
আন্দোলনকারী ওই শিক্ষার্থী দাবি করেন, রানিং সেশন ও অ্যাকাডেমিক মাইগ্রেশনের বিষয়ে মতবিনিময় সভা শেষে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলা হলেও এখনো কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, মতবিনিময় সভা শেষ হয়েছে। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে গণস্বাক্ষর নেওয়ার জন্য। কিন্তু গণস্বাক্ষরের ভিত্তিতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় হয়নি। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেই এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আজ শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আমরা ঢাকা কলেজের মূল ফটকের তালা ভেঙে বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছি।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সর্বশেষ দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা কলেজের মূল ফটকের তালা খুলে দেয় শিক্ষার্থীরা। এসময় দাবি মানা না হলে, সামনের দিনে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
