স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে মধ্যরাতে কার বাসায় ফখরুলের বৈঠক? বিএনপিতে তোলপাড় চলছে

0

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক। গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত হয়েই তাড়া দিতে থাকেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর চোখেমুখে ছিল অস্থিরতা।

বার কয়েক তিনি বৈঠক শেষ করার তাগিদ দেন। দলের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে শপথ নেয়ায় জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে বহিষ্কারে সময় লাগে মোটে ১০ মিনিট। এরপর ২০ দল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেয়ার কথা। কিন্তু মির্জা ফখরুল দুই একটা সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা করেই মিটিং শেষ করার তাগিদ দিচ্ছিলেন।

ফখরুলের অনীহায় বৈঠক আর জমলো না। সিড়িতে দাড়িয়েই বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের ব্রিফ করলেন। এরপর তাড়াহুড়া করেই গাড়িতে উঠলেন। গাড়ি ছুটে চলল বারিধারার দিকে। রাত ১০টার পর বারিধারায় কঠোর নিরাপত্তা। গাড়ি থামালো পুলিশ। মির্জা ফখরুল গাড়ির জানালার গ্লাস নামিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার দিকে তাকালেন। মুহুর্তেই গাড়ি ছেড়ে দেয়া হলো।

বারিধারায় এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর বাড়িতে প্রবেশ করলো মির্জা ফখরুলের গাড়ি। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সরকারী একটি গাড়ি প্রবেশ করলো ওই বাড়িতে। এরপর আরও দুটি সরকারী গাড়ি। রাত দেড়টা পর্যন্ত বিএনপি মহাসচিব ওই বাড়িতে ছিলেন। তাঁর বেরুনোর কিছুক্ষণ আগে বেরিয়ে যায় দূতাবাসের তিনটি গাড়ি। সরকারী গাড়ি বের হয় মির্জা ফখরুল চলে যাওয়ার খানিকক্ষণ বাদে।

মহাসচিবের রহস্যময় নৈশ অভিযান নিয়ে বিএনপিতে এখন তোলপাড় চলছে। যদিও বিএনপি মহাসচিব দলের নেতাদের বলেছেন, পূর্ব নির্ধারিত নৈশভোজের দাওয়াত ছিল তাঁর। কিন্তু যারা মির্জা ফখরুলকে চেনেন তারা জানেন রাত দেড়টা পর্যন্ত নৈশভোজ করার লোক তিনি নন।

তাছাড়া কার দাওয়াত যেখানে শুধু ফখরুল আমন্ত্রিত, বিএনপির অন্যকোনো নেতা নন। সরকারের কারা গিয়েছিলেন সেখানে? কোন দূতাবাসের লোকজনই বা গিয়েছিলেন। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সরকারের সঙ্গে বেগম জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে সমঝোতার জন্যই ঐ বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

দুটি দুতাবাস এই প্যারোল মুক্তির ব্যাপারে সরকার এবং বিএনপির মধ্যে একটি সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগ দুটি বিষয় নিয়ে অচলাবস্থা চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। প্রথম বিষয়টি হলো, বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং সংসদে যোগদান। দ্বিতীয় হলো, বেগম জিয়া প্যারোলের পর দেশে থাকবেন নাকি বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাবেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বেগম জিয়া মুক্তি পাওয়ার আগে শপথ নেয়া বিএনপির পক্ষে অসম্ভব। এটা বিএনপির মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে, বেগম জিয়ার বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হলো নেতিবাচক। সরকার মনে কেরে বেগম জিয়া বিদেশ গিয়ে সরকার এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত হতে পারে।

সেখানে গিয়ে দলের বিরুদ্ধে নানা প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন। এসব বাস্তবতার প্রেক্ষিতে সরকার বেগম জিয়ার প্যারোল চাইলেও তাকে বিদেশে যেতে দিতে রাজী নয়। তবে, জানা গেছে সমঝোতা উদ্যোগ এগুচ্ছে। শিগগীরই সবকিছু পরিস্কার হয়ে যাবে।সূত্র:বাংলা ইনসাইডার

(Visited 1,945 times, 1 visits today)

Leave A Reply

Your email address will not be published.