নুসরাত হত্যা: অধ্যক্ষ বলল আমাকে শরীল দে ,আমি তোকে প্রশ্ন দিব।রাতে গোপঁন বৈঠকে যা হয়

0

শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার করেছিল মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। কিন্তু দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হেরে গেল সে। ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী ও আলিম পরীক্ষার্থী রাফি গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

এদিকে কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ ঘটনার আগের রাতে মাদরাসার ‘অবৈধ ছাত্রাবাসে’ গোপন বৈঠক করেছিল অভিযুক্ত অধ্যক্ষ (বর্তমানে বরখাস্ত) সিরাজের সহযোগীরা। মামলার আসামিসহ সন্দেহভাজন কয়েকজনকে ওই রাতে ছাত্রাবাস থেকে বের হতে দেখেছে স্থানীয় লোকজন।

এদিকে কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে অভিযুক্ত সিরাজের আরো কুকীর্তির তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তাঁর অপকর্মের বিষয়ে এখন অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছে।

নুসরাতের খাতার লেখা পাতার দুটি ছবি কালের কণ্ঠ’র হাতে এসেছে। তার একটি পাতায় লেখা আছে, ‘আমি লড়বো শেষনিঃশ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্মহত্যা করতে গিয়ে। সেই ভুলটা দ্বিতীয়বার করবো না। মরে যাওয়া মানেই তো হেরে যাওয়া। আমি মরবো না, আমি বাঁচবো। আমি তাকে শাস্তি দেব যে আমায় কষ্ট দিয়েছে। আমি তাকে এমন শাস্তি দেব যে তাকে দেখে অন্যরা শিক্ষা নিবে। আমি তাকে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেব ইনশাআল্লাহ।’

আরেকটি পাতায় রাফি লিখেছে, ‘তামান্না, সাথী। তোরা আমার বোনের মতো এবং বোনই। ওই দিন তামান্না আমায় বলেছিল, আমি নাকি নাটক করতেছি। তোর সামনেই বললো। আরো কি কি বললো, আর তুই নাকি নিশাতকে বলেছিল, আমরা খারাপ মেয়ে। বোন, প্রেম করলে কি সে খারাপ??? তোরা সিরাজ উদ দৌলা সম্পর্কে সব জানার পরও কিভাবে তার মুক্তি চাইতেছিস।

তোরা জানিস না, ওই দিন রুমে কি হইছে? ওনি আমার কোন জায়গায় হাত দিয়েছে এবং আরো কোন জায়গায় হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে, উনি আমায় বলতেছে—নুসরাত ডং করিস না। তুই প্রেম করিস না। ছেলেদের সাথে প্রেম করতে ভাল লাগে। ওরা তোরে কি দিতে পারবে? আমি তোরে পরীক্ষার সময় প্রশ্ন দেব। আমি শুধু আমার শরীর দিতাম ওরে। বোন, এ জবাবে উত্তর দিলাম। আমি একটা ছেলে না হাজারটা ছেলের…’

ঘটনার আগের রাতে গোপন বৈঠক:মাদরাসার পুরনো ভবনের তৃতীয় তলায় হেফজখানার পাশে দুটি কক্ষে কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অনুমোদন বা হিসাব-নিকাশ ছাড়াই অবৈধভাবে ওই ছাত্রাবাস গড়ে তুলেছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজ। সেখানে পরীক্ষার্থীদের নাম করে তাঁর ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা থাকত।সূত্র:কালের কণ্ঠ

(Visited 1,180 times, 1 visits today)

Leave A Reply

Your email address will not be published.