সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভয়ে স্টেশন ধুয়ে মুছে রেখেছিলেন রেলকর্মীরা কিন্তু তিনি নামতেই পারলেন না

কাদেরের ভয়ে স্টেশন- রেলপথে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা সফরকালে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে শনিবার দুপুরে পথসভা করার কথা ছিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। তবে ‘নীলসাগর’ আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় সিরাজগঞ্জে পথসভা করতে পারেননি তিনি।

শুক্রবার আওয়ামী লীগের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, সিরাজগঞ্জে পথসভা করবেন ওবায়দুল কাদের। কিন্তু ‘নীলসাগর’ ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় শেষ পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি। সেতুমন্ত্রীকে বহনকারী ট্রেনটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে পশ্চিম পাড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন অতিক্রম করে।সেতুমন্ত্রীর পথসভা হতে পারে এমন খবরে স্টেশনটি আগে থেকেই ঝকঝকে করা হয়। নিরাপত্তা প্রহরীসহ রেলবিভাগের অন্যদের পরিপাটি কেতাদুরস্ত হয়ে আগে থেকেই স্টেশনে অবস্থান করছিলেন।

সেতুমন্ত্রীর পাবলিক রিলেশন অফিসার (পিআরও) আবু নাসের বলেন, ‘নীলসাগর ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় যাত্রাপথে সিরাজগঞ্জে সেতুমন্ত্রীর পথসভা শেষ পর্যন্ত হয়নি।’সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না জানান, ‘আমরা আগেই খবর পেয়েছিলাম নীলসাগর আন্তঃনগর ট্রেনটি এম মনসুর আলী স্টেশনে থামবে না। পথসভা না হওয়ার খবর জানতে পেরে নেতাকর্মীরা সেখানে যাননি।’স্টেশনের ইনচার্জ বুকিং ক্লার্ক কাম স্টেশন মাস্টার জামাল উদ্দিন বলেন, ‘এ স্টেশন শুধু নয়, সিরাজগঞ্জের কোনও স্টেশনেই নীলসাগর ট্রেনের স্টপেজ নেই।

কিন্তু গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি দেখে আমরাও সতর্ক অবস্থায় ছিলাম। আর মন্ত্রী সাহেব কখন কোথায় নেমে যান কি-না সেটি নিয়েও আমরা বেশ সংশয়ে ছিলাম। তার ভয়েই পরিষ্কার করে রেখেছিলাম স্টেশন।
স্টেশনে ট্রেন না থামলেও স্থানীয় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. আহাদ উল্লাহ, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সরওয়ার হোসেন, সদর থানার উপ-পরিদর্শক মেহেদী হাসানসহ অর্ধশত গণমাধ্যমকর্মী স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন। তবে সেখানে আওয়ামী লীগ বা এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি। ’ওবায়দুল কাদেরের ভয়ে স্টেশন ধুয়ে মুছে রেখেছিলেন রেলকর্মীরা কিন্তু তিনি নামতেই পারলেন না