এবার খালেদাকে বিশ্ব প্রতারক বললেন ট্রাম্প

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকৃতি দেওয়ার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়া এ উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির এই সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন না দেয়া সম্পর্কে বৃহস্পতিবার সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়াকে প্রতারক বলে তার চরিত্র নিয়ে বিস্তর ব্যাখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্টি ট্রাম্প বলেন, ২০১৭ সালের জানুয়ারীতে খালেদা জিয়া তার ব্যক্তিগত দূত মারফত বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে অবহিত করতে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে খালেদা জিয়া কমিটমেন্ট না রেখে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির বিরোধীতা করেছেন। খালেদা জিয়ার সাথে যেসব রাজনৈতিক চুক্তি হয়েছিল তিনি তা না রেখে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানান ট্রাম্প। ট্রাম্প মনে করেন, খালেদা জিয়া একজন অপদার্থ সুবিধাবাদি বেঈমান প্রকৃতির মহিলা।

তথ্য সূত্র বলছে, মার্কিন ক্ষমতায় আসীন হবার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতা চেয়েছিলেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। ট্রাম্পের কাছে জাতীয়তাবাদী দলকে ক্ষমতায় নেবার জন্য অনেকগুলো অঘোষিত দেশবিরোধী চুক্তি করেছিলেন তিনি। মোসাদের এজেন্ট বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর মাধ্যমে এ চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন বলেও ইসরায়েলের গণমাধ্যমকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের সাথে চুক্তির অধিকাংশ কথা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া।

রোহিঙ্গা সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন অস্ত্র ক্রয়ের ব্যবস্থা করবেন বলে চুক্তি করলেও সরকারের সতর্ক অবস্থানের জন্য তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন বিএনপি নেত্রী। এছাড়াও তিনি সেই চুক্তিতে ট্রাম্পকে কথা দিয়েছিলেন মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে চট্টগ্রামে মার্কিন ঘাটি স্থাপনের ব্যবস্থা করে দিবেন। কিন্তু ট্রাম্পের অস্ত্র নীতির সাথে সম্পর্কযুক্ত এসব চুক্তি রাখতে না পারায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি মারাত্মকভাবে নাখোশ। আর চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় খালেদা জিয়াকে অপদার্থ এবং প্রতারক হিসেবে মনে করছেন ট্রাম্প।

প্রসঙ্গত, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সাহায্য নিয়ে খালেদা জিয়া ২০১৭ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করার সকল বার্তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশে মোসাদের এজেন্ট বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীকে দূত হিসেবে কাজে লাগান।

খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসলে যেসব সুবিধা মার্কিন সরকার ভোগ করতে পারবে তার একটি নকশাও মেন্দি এন সাফাদির মাধ্যমে ট্রাম্পের কাছে পৌঁছানো হয়েছিল তখন। তবে ক্ষমতায় যাবার জন্য রোহিঙ্গা ইস্যুকে পুঁজি করে অস্ত্র ক্রয়ের বিষয়টি বিএনপির ট্রাম্প কার্ড হতে পারতো বলে মত প্রকাশ করেছেন জাতীয়তাবাদী দর্শনের বুদ্ধিজীবীরা। বিএনপি নেত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুর সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাম্পের কাছে বিশ্ব প্রতারকের তকমা পেয়েছেন বলেও মনে করেন এসব নামধারী বুদ্ধিজীবী।