কেউ যেনো দল ছেড়ে যেওনা কেউ নিরুৎসাহিত হওনা- এরশাদ

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, জাতীয় পার্টি এখন কঠিন সময় পার করছে, আমরা ভেঙে পরি নাই। আগামীতে হয়তো আরো কঠিন সময় পার করতে হবে। সেজন্য জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। কেউ যেন দল ছেড়ে যেওনা, কেউ নিরুৎসাহিত হওনা। সবাই এমপি হতে পারেনা, সবাইকে দলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারন, সুদিন আমাদের আসবেই। ভালো থেকো, সবাই। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে সংবিধান সংরক্ষণ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় মোবাইল ফোনে সাবেক রাষ্ট্রপতি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন। এর আগে বেলা ১২টার দিকে সিএমএইচ থেকে বাসায় ফেরার পথে গাড়িতে বসেই নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন আমি বেঁচে আছি, ভালো আছি। তোমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে দলকে শক্তিশালী করো। নতুন মহাসচিবকে সহায়তা করো, নতুন মহাসচিবের নির্দেশনা মেনে দলকে আরো গতিশীল করতেও আহবান জানান তিনি। আমরা নির্বাচনে যাবো, জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অনেক ভালো করবে। আমি বেঁচে আছি, দলকে বিজয়ের পথে নিয়ে যাবো আমরা। তোমরা জাতীয় পার্টির পতাকাতলেই থেকো, কেউ যেন দল না ছাড়ে সে আহবানও জানান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংরক্ষণ দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, পার্টি চেয়ারম্যান ডাক্তারের পরামর্শেই আছেন। মেডিকেল বোর্ড মনে করলে, তিনি সিঙ্গাপুরেই চিকিৎসা নেবেন। এরশাদ রাজনীতিতে আছেন- তিনিই জাতীয় পার্টি পরিচালনা করছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ সকল সিদ্ধান্তই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিচ্ছেন। স্বাধীনভাবেই তিনি রাজনীতি করছেন এবং দল পরিচালনা করছিন। সংবিধান সংরক্ষণ দিবসের আলোচনা সভায় জিএম কাদের আরো বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে যারা ক্ষমতা প্রয়োগকারী বলেছে, তারাই প্রধানমন্ত্রী হয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এর ক্ষমতার সাথে পার্টির প্রধান হয়ে পরবর্তীতে আরো বেশি ক্ষমতা অপব্যাবহার করেছেন। এতে ক্ষমতার ভারসাম্য শেষ হয়ে গেছে। যারা এরশাদের শাসনামলকে নিন্দাবাদ করেছেন, তারা বুকের ওপর হাত দিয়ে বলতে পারবেন না, এরশাদ পরবর্তী সময়গুলো দেশের ভালো কেটেছে। তিনি বলেন, এখন মূল্যায়নের সময় এসেছে, এরশাদের শাসনামল নাকি পরবর্তী সরকারগুলোর শাসনামলে দেশ ভালো চলেছে।

জিএম কাদের আরো বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একজন বয়োজেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, তাঁর দেশ পরিচালনার দক্ষতা ও ক্ষমতা আছে। তাই দেশের মানুষ এখনো হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে ফিরে যেতে চায়। দেশের মানুষ এখনো এরশাদকে ভালোবাসেন। কিন্তু যারা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বি তারা শুধু এরশাদেই ভয় পায়। কারন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সঠিক সময়ে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। জিএম কাদের বলেন, কেউ যদি দলের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে, ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে চায় তা বরদাশ করা হবেনা। জাতীয় পার্টি এগিয়ে যাওয়া মানেই দেশের গণতন্ত্র সমুন্নত হওয়া। জাতীয় পার্টি শক্তিশালী হলেই দেশের সংবিধান সুসংহত হয়।

সভাপতির বক্তৃতায় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, জাতীয় পার্টি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। জাতীয় পার্টি চায় সাধারন মানুষ যেন নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ভোট ডাকাতি ও ব্যালট ছিনতাই জাতীয় পার্টি বিশ্বাস করেনা। নির্বাচন প্রসঙ্গে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, জাতীয় পার্টি ১৪ দলের সাথে অংশ নিয়ে মহাজোটের মাধ্যমে নির্বাচন করবে। তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পার্টি সাংবাদিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করেছে। এবার আপনারা আমাদের পাশে থাকুন, আমাদের সাহায্য করুন। আমরা লাঙ্গলকে বিজয়ের পথে নিয়ে যেতে চাই। পার্টি চেয়ারম্যানের প্রতি জুলুম ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতিকে ১২দিন মাটিতে ঘুমাতে হয়েছে। বিনা বিচারে ৭ বছর কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। যারা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি অবিচার করেছে, আজ তারাই কারাগারে দিন পার করছে। যারা র‌্যাব দিয়ে মানুষ খুন করেছে, অপারেশন ক্লিনহাটের নামে মানুষ হত্যা করেছে তারাই আজকে মানুষ খুনের ধুয়া তুলছে। তিনি বলেন, নতুন করে মহাসচিবের দায়িত্ব নেয়ার পর এখন এক মাসেরও কম সময় আছে। তারপরও আমরা আগামী প্রজন্মেও জন্য বাসযোগ্য একটি দেশ গড়তে চাই।

দলকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণাও দেন নবনিযুক্ত মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতিদিনই দলীয় এমপি ও মন্ত্রীরা বনানী এবং কাকরাইল অফিসে সময় দেবেন। দলের নেতা-কর্মীদের সংগঠিত এবং উজ্জীবিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে। তিনি বলেন, শুধু ঢাকায় সময় দিলেই হবেনা, দেশের তৃণমূলে সফর করতে হবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে হবে।

জাতীয় পার্টির সংরক্ষণ দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য নূর-ই হাসনা লিলি চৌধুরী, সুনীল শুভ রায়, এস.এম. ফয়সল চিশতী, উপদেষ্টা- এ্যাড. রেজাউল ইসলাম ভূঁঞা, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আহসান শাহজাদা, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সদস্য সচিব মোঃ বেলাল হোসেন, শ্রমিক পার্টির সভাপতি-একেএম আশরাফুজ্জামান খান, ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক মোড়ল জিয়া। উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া টিপু, প্রফেসর মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, এটিইউ তাজ রহমান, শফিকুল ইসলাম সেন্টু। উপদেষ্টা- একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ নোমান, মোঃ সেলিম উদ্দিন, নাজমা আখতার, একেএম মোস্তাফিজুর রহমান।
ভাইস চেয়ারম্যান- নুরুল ইসলাম নুরু, অধ্যাপক আবুল হোসেন, নুরুল ইসলাম মিলন, আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী, সরদার শাহজাহান, আতাউর রহমান আতা, হেনা খান পন্নি, যুগ্ম মহাসচিব- গোলাম মোহাম্মদ রাজু, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, এ্যাড. তোফাজ্জল হোসেন, নুরুল ইসলাম ওমর, সালাউদ্দিন মুক্তি, জহিরুল আলম রুবেল, শফিকুল ইসলাম শফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক- সুলতান আহমেদ সেলিম, মুনিম চৌধূরী, মোঃ হেলাল উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম ঝন্টু, মোস্তাফিজুর রহমান নাঈম, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য- সুলতান মাহমুদ, আনিস উর রহমান খোকন, এমএ রাজ্জাক খান, আবু সাঈদ স্বপন, ডা. সেলিমা খান, মাহমুদুর রহমান মুন্নি, শারমিন পারভিন লিজা, সুমন আশরাফ, শাহিদা রহমান রিংকু, আহাদ চৌধুরী শাহীন, রেজাউল করিম, মনোয়ারা তাহের মানু, মৌলভী ইলিয়াস উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা- আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোহিবুল্লাহ, মোঃ নিয়াজ আলী ভূঁইয়া, ফজলে এলাহী সোহাগ, পনির উদ্দিন আহমেদ, মফিজুর রহমান মফিজ, শামসুল হুদা, এনাম জয়নাল আবেদীন, মোঃ আখতার হোসেন, শাহানারা বেগম, শেখ আজাহার হোসেন, মোঃ আখতার হোসেন, জিএম বাবু, খোরশেদ আরা হক, মিনি খান, তাসলিমা আখতার রুনা, এ্যাড, জুলফিকার হোসেন, তিতাস মোস্তফা, রেজাউর রাজী স্বপন, সোলেমান সামি, বাবু শংকর পাল, আব্দুস সাত্তার, মামুনুর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।